এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলা নববর্ষ আমাদের প্রাণের সর্বজনীন উৎসব। এটি আমাদের ঐক্য, সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের ভেদাভেদ অতিক্রম করে পহেলা বৈশাখ সবার জন্য হয়ে ওঠে আনন্দ ও মিলনের দিন। আমাদের গৌরবময় ঐতিহ্য, সমৃদ্ধ সংস্কৃতি এবং আত্মপরিচয়ের ধারক ও বাহক হিসেবে এ উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম। বৈশাখের আগমনে আমাদের জীবনে জাগে নতুন প্রত্যাশা, নব প্রতিশ্রুতি ও অসীম সম্ভাবনার স্বপ্ন।’
অতীতের গ্লানি, বেদনা ও ব্যর্থতা পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
আরও পড়ুন:
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের নতুন পথচলা শুরু হয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বেশ কিছু জনকল্যাণমুখী ও দূরদর্শী কর্মসূচি চালু করেছে। কৃষিনির্ভর এ দেশের প্রেক্ষাপটে মুঘল আমলে ফসলি সনের প্রবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা সনের যে যাত্রা শুরু, সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা বৈশাখে কৃষক কার্ড কর্মসূচির সূচনা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, ‘বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় আমরা নানাবিধ চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এ প্রেক্ষাপটে আমাদের আরও সংযমী, ধৈর্যশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
আরও পড়ুন:
সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সততা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে দেশ সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সক্ষম হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
নতুন বছরে ব্যক্তি ও জাতীয় জীবনে সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নববর্ষের এই আনন্দমুখর মুহূর্তে সব অশুভ ও অসুন্দর দূর হোক, সত্য ও সুন্দরের জয়ধ্বনি প্রতিধ্বনিত হোক সর্বত্র। বিদায়ী বছরের সব দুঃখ-বেদনা মুছে গিয়ে নতুন বছর বয়ে আনুক অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।’
তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতার বন্ধন আরও সুদৃঢ় করে ভেদাভেদ ভুলে একটি অসাম্প্রদায়িক, ঐক্যবদ্ধ ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার।





