আজ (সোমবার, ৩০ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ শাসনামলে ২০১৯ সালের জুন মাসে আইএলও কনভেনশন ৮১, ৮৭ ও ৯৮ প্রতিপালনে ব্যর্থতার অভিযোগে সংস্থাটির সংবিধানের ২৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের পাঁচ জন শ্রমিক প্রতিনিধি একটি মামলা দায়ের করে। এ মামলার প্রেক্ষিতে তৎকালীন সরকার ২০২১ সালে একটি পাঁচ বছর মেয়াদী শ্রমখাত সংস্কার সংক্রান্ত রোডম্যাপ প্রণয়ন করে আইএলওর গভর্নিং বডিতে দাখিল করে। দাখিলকৃত এ রোডম্যাপে অর্জিত অগ্রগতির বিষয়ে গত পাঁচ বছরে গভর্নিং বডির আটটি অধিবেশনে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বলা হয়, সোমবার ৩০ মার্চ এ বিষয়ে অনুষ্ঠিত আলোচনায় বর্তমান সরকার নবম অগ্রগতি রিপোর্ট পেশ করে। এ দিন মামলাটির আলোচনায় অংশ নিয়ে সব দেশের প্রতিনিধিরা বর্তমান সরকারের সমর্থনে বক্তব্য রাখেন। সংস্থাটির ৫৬ সদস্যবিশিষ্ট গভর্নিং বডির ১৯টি রাষ্ট্র, দুটি আঞ্চলিক গ্রুপভুক্ত ২৮টি দেশ ও মালিকপক্ষ শ্রম খাত উন্নয়নে নতুন সরকারের সুদৃঢ় আইনগত ও প্রশাসনিক সংস্কারের অঙ্গীকারের ভূয়সী প্রশংসা করে চলমান মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানায়।
মামলা সংক্রান্ত আলোচনায় বাংলাদেশের পক্ষে শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি এবং প্রধানমন্ত্রীর শ্রম, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন অংশগ্রহণ করেন।
এসময় জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান ও শ্রমসচিব আব্দুর রহমান তরফদার উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন উপস্থিত সব গভর্নিং বডি সদস্যকে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান। তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার প্রয়োজনীয়তা এবং শ্রম অধিকার, শ্রমিক সুরক্ষা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত অঙ্গীকার রয়েছে বলেও জানান।
উপদেষ্টা জানান, বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত সরকারকে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার সুস্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে। এ ম্যান্ডেটের মূলে রয়েছে নির্বাচনি ইশতেহার যেখানে নাগরিক অধিকার বিশেষত মানবাধিকার, আইনের শাসন ও বাক-স্বাধীনতা, ব্যাপক ও বহুমুখী কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন ও যোগ্যতা বৃদ্ধি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠায় দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারাবদ্ধ। সরকারের এসব অগ্রাধিকারের সঙ্গে আইএলওর “ডিসেন্ট ওয়ার্ক এজেন্ডা” সামঞ্জস্যপূর্ণ।’
বাংলাদেশ শ্রম আইন সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ কে আইনে রূপান্তরের লক্ষ্যে সংসদীয় বিশেষ কমিটি গঠিত হয়েছে বলে অধিবেশনে উপস্থিত সবাইকে জানান তিনি। এছাড়া সরকার এ প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জোর প্রচেষ্টা চালাবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ‘ত্রিপক্ষীয় আলোচনার ভিত্তিতে প্রণীত সংশোধনীগুলোর বিষয়ে সরকারের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। এর মধ্য দিয়ে অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই ও কর্মসংস্থান নির্ভর উন্নয়ন সম্ভব হবে।’
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে সুসংহতকরণে, শ্রমিক অধিকার নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে শ্রম ও কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা এক্ষেত্রে আইএলওসহ সংশ্লিষ্ট সবার অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন।
আলোচনায় ২২ সদস্যবিশিষ্ট আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যবিশিষ্ট উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ, নাইজার, চীন, রাশিয়া, জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, তানজানিয়া, ইরান, লিবিয়া, ওমান, ফিলিপাইন, নেপাল, তিউনিসিয়া, ইথিওপিয়া, লাওস, কিউবা, মোজাম্বিক, গ্যাবন, উজবেকিস্তানসহ মোট ১৯টি দেশ, মালিকপক্ষ ও দু’টি আঞ্চলিক গ্রুপ শ্রম খাতের উন্নয়নে সরকারের গৃহীত নানা পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করে।
সমর্থনকারী দেশগুলোর মধ্যে ১৪টি দেশ, ২২ সদস্যের আরব গ্রুপ, ৬ সদস্যের উপসাগরীয় অঞ্চলের গ্রুপ ও মালিকপক্ষ মামলাটি দ্রুত তুলে নেয়ার জন্য জোর দাবি জানায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধি, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা শ্রম আইন সংশোধনের অগ্রগতি, পরিদর্শক নিয়োগ ও অন্যান্য ক্ষেত্রে অর্জিত অগ্রগতির প্রশংসা করে রোডম্যাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের জন্য আরও পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
দীর্ঘ আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে মামলাটির পরবর্তী আলোচনা আগামী বছরের মার্চে অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় বলেও জানানো হয় এ বিজ্ঞপ্তিতে।





