আইজিপি বলেন, ‘প্রতিবছর ঈদযাত্রায় ঘরমুখী মানুষের অনেক সমস্যা হয়। বিশেষ করে সড়কে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আবার দেখা যায়, অনেকে ঈদের আগের দিন রওনা দেয়, বাড়িতে পৌঁছে সঠিকভাবে ঈদটাও করতে পারে না। এ জন্য এ বছর আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে আমাদের যাত্রীদের ঈদযাত্রায় যেন হয়রানি, টিকিটের মূল্য বেশি নেয়া, সড়কে যানজট না হওয়া তা নিশ্চিত করার জন্য সব মহাসড়কে ব্যবস্থাপনা যাতে উন্নত করা যায়, সে জন্য গুরুত্বসহকারে কাজ করছি।
আলী হোসেন ফকির আরও বলেন, ‘বড় বড় বাজার ও মোড়গুলোতে প্রচুর পরিমাণের যানজট সারা বছর লেগেই থাকে। সেগুলো দূর করার জন্য সেখানে পুলিশের উপস্থিতিতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ওই এলাকায় যাতে যানজট না হয়, তার নির্দেশ দিয়েছি। এছাড়া পরিবহন মালিক সমিতির লোকজনকে অনুরোধ করেছি, যাতে পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যারা চালক ও সহযোগী হিসেবে থাকেন; তারা অনেক সময় ট্রাফিক আইনটাও জানেন না। ট্রাফিক আইন মেনে চলেন না। এতে যানজট তৈরি হয়, এসব ক্ষেত্রে একটু মেধা খাটালেই এটা থেকে আমরা মুক্তি পেতে পারি। এজন্য তাদের অনুরোধ করেছি, তাদের মোটিভেশন ও ট্রাফিক আইন শিক্ষা দেয়ার জন্য।’
গাবতলী বাস টার্মিনালে আইনশৃঙ্খলার তৎপরতার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ‘এখানে মাদকসেবী, ছিনতাইকারী রয়েছে। সব ধরনের লোকই আছে। এজন্য সারা দেশে ও পুলিশের সকল ইউনিটকে বলে দিয়েছি যেন ডিউটিতে থাকে। কোনো ধরনের হুমকি নেই। তারপরও জনগণকে বলতে চাই, বাংলাদেশ পুলিশ তৎপর রয়েছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা, অন্যায় কোনো কিছুর সঙ্গে আপস করা হবে না।’
রাজধানীতে নানা স্থানে অবৈধ বাস কাউন্টারের বিষয়ে আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘আইজিপি হিসেবে যোগদানের পরই বলেছি, ঢাকা শহরের ভেতরে দূরপাল্লার কোনো বাস কাউন্টার থাকতে পারবে না। এটা দূর করার জন্য আমাদের সবার প্রচেষ্টা দরকার। আইনের মাধ্যমে আমরা এসব দূর করব।’
এসময় কাউন্টারের ডিসেন্ট্রালাইজেশনের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
টিকিটের মূল্য বেশি নেয়ার পরও অভিযোগ না করার বিষয়ে আইজিপি বলেন, ‘এটা আমাদের সমস্যা। আইন না জানাও একটা অপরাধ। জানার দায়িত্ব নিজের। প্রচলিত দেশের আইন জানা একজন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব। প্রধান দায়িত্ব আপনাকে আইন জানতে হবে। আপনি জানেন না, এসে বলবেন, আমি এটা জানতাম না, এই অজুহাত মানব না। প্রচলিত আইন জানাও আমাদের দায়িত্ব।’





