চিঠিটি গতকাল (মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি) স্বাক্ষর করেন মোহাম্মদ শাহজাহান। চিঠিতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের আদালত থেকে জামিন পাওয়ার পর পুনরায় গ্রেপ্তার বা ‘শোন-অ্যারেস্ট’ দেখানোর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, আওয়ামী লীগসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর যেসব প্রভাবশালী নেতা বা কর্মী জামিনে মুক্ত হওয়ার পর পুনরায় দলকে শক্তিশালী করার সক্ষমতা রাখেন কিংবা মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। এ ধরনের সক্রিয় ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ ব্যক্তিরা জামিন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তাদের বিরুদ্ধে থাকা অন্য কোনো পুরোনো বা নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।
তবে যেসব কর্মীর মধ্যে এ ধরনের সাংগঠনিক প্রভাব বা তৎপরতা চালানোর সক্ষমতা নেই, তাদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে আরও জানানো হয় যে, ইতিপূর্বেও এ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছিল। বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জরুরি উল্লেখ করে রাজশাহী রেঞ্জের প্রতিটি জেলায় এটি কার্যকর করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ, নাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এ নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।
চিঠির বিষয়ে গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, ‘এই চিঠি সাংবাদিকদের কাছে যাওয়া চরম দুর্বলতা আমি মনে করি, আপনাদের কাছে যাওয়া উচিত ছিল না। এটা একান্তই সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
আরও পড়ুন:
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ বা তাদের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে এই নির্দেশনা নয়। বরং ‘সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে পারে এমন ব্যক্তিদের জন্য’ এই বিশেষ নির্দেশনা। আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় সেজন্য নিজেদের সদস্যদের আগাম বার্তা দেয়ার অংশ এই নির্দেশনা। এটি রুটিন ওয়ার্ক নয়।
তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো ব্যক্তি, কোনো সংগঠন বা কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি যারা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত, তাদের কোনো ব্যক্তি বা সংগঠন টার্গেট করি নাই। যারা নিষিদ্ধঘোষিত, যারা সমাজের অপরাধী, বিভিন্ন কারণে নিষিদ্ধ সংগঠন, সমাজের ভেতরে বিশৃঙ্খলা করতে পারে, তাদের বিষয়ে কনসার্ন আমাদের।’





