আজ (শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পৌনে চারটার দিকে রাজধানীর শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এবং হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছিল ইনকিলাব মঞ্চ। কর্মসূচিকে ঘিরে পুলিশ আগে থেকেই ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ে ব্যারিকেড বসায়।
আজ যমুনার সামনে অবস্থান করছিলেন ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পাসহ কয়েকজন। অন্যদিকে, হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারসহ কয়েক শ’ নেতা-কর্মী অবস্থান নেন।
বেলা সাড়ে তিনটার দিকে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনবিষয়ক সম্পাদক ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ কয়েকজন যমুনার সামনে যেতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
এরপর ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থানরত ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। পুলিশ প্রথমে জলকামান থেকে পানি ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরে সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ এবং লাঠিচার্জ করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বোতল ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।
সংঘর্ষে ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ও ডাকসু নেত্রী ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ‘ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষুব্ধ লোকজন পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনা ঘেরাওয়ের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ জলকামানের ওপর উঠে সেটি ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা করে। জনস্বার্থ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।’
সংঘর্ষের পর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন ঢাকা-৮ আসনে ১১ দলীয় নির্বাচন ঐক্যের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এরপর তার নেতৃত্বে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে থেকে একটি প্রতিবাদ মিছিল শুরু হয়, যা শাহবাগ মোড়ের দিকে অগ্রসর হয়।





