এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি; থাকছে যেসব সুযোগ

মাউশি
মাউশি | ছবি: এখন টিভি
5

স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চবিদ্যালয় শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীনের স্বাক্ষরে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বা শিক্ষিকাদের বদলির ব্যবস্থা থাকার প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হওয়ায় একটি নীতিমালার আওতায় স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্দেশে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার’-এর মাধ্যমে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের জন্য নিম্নোক্ত বদলি নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়ন করা হলো।

এ নীতিমালা স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা-২০২৬’ নামে অভিহিত হবে।

এ নীতিমালা জারির তারিখ থেকে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রযোজ্যতা: বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (স্কুল, কলেজ) এমপিওভুক্ত শিক্ষকগণের জন্য এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে।

আরও পড়ুন:

বদলির সাধারণ শর্তাবলী: মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠানভিত্তিক শূন্যপদের চাহিদা/বিবরণ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অনলাইনে প্রকাশ করবে।

প্রকাশিত শূন্য পদের বিপরীতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর বদলির আবেদন আহ্বান করবে।

সমপদে পদ শূন্য থাকা সাপেক্ষে প্রতি বৎসর সরকার কর্তৃক জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন গ্রহণ, বদলির আদেশ জারি ও নতুন কর্মস্থলে যোগদান কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা তার চাকরির আবেদনে উল্লেখ করা নিজ জেলায় বদলির জন্য আবেদন করবেন। নিজ জেলায় পদ শূন্য না থাকলে নিজ বিভাগের যেকোনো জেলায় বিদ্যমান শূন্য পদের বিপরীতে বদলির আবেদন করতে পারবে। এছাড়াও আবেদনকারী শিক্ষক/শিক্ষিকা এ নীতিমালার ৩.৮(গ) ক্রমিকে বর্ণিত ক্ষেত্রে যেকোনো জেলায় অথবা স্বামী/স্ত্রীর নিজ জেলায় বদলির আবেদন করতে পারবে।

আরও পড়ুন:

প্রথম যোগদানের পর চাকরি দুই বছর পূর্ণ হলে শিক্ষক/শিক্ষিকারা বদলির আবেদন করার জন্য যোগ্য হবেন।

বদলি হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর ন্যূনতম দুই বছর কর্মে নিয়োজিত থাকার পর পরবর্তী বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

একজন শিক্ষক কর্মজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। একটি শূন্য পদের জন্য একাধিক আবেদন পাওয়া গেলে, নিম্নোক্ত অগ্রাধিকার বিবেচনা করতে হবে:

স্বামী/স্ত্রীর কর্মস্থল (সরকারি/ আধা সরকারি/স্বায়ত্তশাসিত/ এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান) চাকরির জ্যেষ্ঠতা সবশেষ জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুযায়ী গণনা করা হবে।

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী সব আবেদনকারীর কর্মস্থল একই উপজেলায় হলে তাদের বর্তমান কর্মস্থল যে উপজেলায় সে উপজেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত উপজেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

আরও পড়ুন:

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারী বিভিন্ন উপজেলার হলে তাদের কর্মস্থল যে জেলায় সে জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপপূর্বক অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।

একটি পদের জন্য প্রতিযোগী আবেদনকারীর কর্মস্থল বিভিন্ন জেলায় হলে তাদের স্ব-স্ব জেলার কেন্দ্র হতে কাঙ্ক্ষিত জেলার কেন্দ্রের দূরত্ব পরিমাপ করতে হবে।

দূরত্ব পরিমাপের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুসৃত মডেল অনুসরণ করা হবে।

অসম্পূর্ণ বা ভুল তথ্য সম্বলিত আবেদন বিবেচনাযোগ্য হবে না। ইচ্ছাকৃত ভুল তথ্য প্রদান প্রমাণিত হলে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) কর্তৃক নিয়োগ সুপারিশ কার্যক্রমের পূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর শিক্ষক বদলি কার্যক্রম সম্পন্ন করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বছরে সর্বোচ্চ দুইজন শিক্ষক অগ্রাধিকারভিত্তিতে (নারী ও জ্যেষ্ঠতা) বদলির সুযোগ পাবেন। তবে এক বিষয়ে একজনের অধিক শিক্ষক বদলির সুযোগ পাবেন না। (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)

আরও পড়ুন:

আবেদনকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা বদলির আবেদনে সর্বোচ্চ তিনটি কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানের নাম অন্তর্ভুক্ত করতে পারবেন।

শিক্ষক বদলির কর্তৃপক্ষ

মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ বদলি কার্যক্রম তদারকি করবে।

শিক্ষক বদলির আবেদন নিষ্পত্তি প্রক্রিয়া

বদলির সমগ্র প্রক্রিয়া নির্ধারিত স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অনুমোদনক্রমে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর সফটওয়্যার তৈরি ও অনলাইন আবেদনের ফরম্যাট নির্ধারণ করবে।

বদলিকৃত শিক্ষকের ইনডেক্স পূর্বের প্রতিষ্ঠান থেকে বদলিকৃত প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ট্রান্সফার হবে। পারস্পারিক বদলির ক্ষেত্রে লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ বদলি/পদায়নের বিষয়টি নিষ্পন্ন করতে পারবেন। বদলিকৃত শিক্ষকের এমপিও ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি এবং জ্যেষ্ঠতার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। বদলির আবেদনের ভিত্তিতে বদলি অধিকার হিসেবে দাবি করা যাবে না। বদলিকৃত শিক্ষক কোনো ধরনের টিএ/ডিএ ভাতা পাবেন না।

আরও পড়ুন:

আদেশ জারির ১০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান বদলিকৃত শিক্ষকের অবমুক্তি নিশ্চিত করবেন। অবমুক্ত হওয়ার পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধান যোগদানের তথ্য চেয়ারম্যান, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) ও মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরকে অনলাইনে অবহিত করবেন।

অবমুক্তি হতে যোগদান পর্যন্ত দিবসগুলো কর্মকাল হিসেবে গণ্য হবে। কোনো শিক্ষকের বিষয়ে স্টপ পেমেন্ট, সাময়িক বরখাস্ত ও ফৌজদারি মামলা চলমান থাকলে তিনি বদলির যোগ্য হবেন না।

রহিতকরণ: এ নীতিমালা জারি হওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় হতে ২০২৪ এর ১৯ ডিসেম্বর জারি করা ৩৭.০০.০০০০,০৭২.২২.০১১.২৩.৩৭৪ নম্বর স্মারকে ‘স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ) কর্মরত এনটিআরসিএ সুপারিশপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক বদলি নীতিমালা ২০২৪’ এতদ্বারা রহিত করা হলো।

মন্ত্রণালয় প্রয়োজনে এ নীতিমালা পরিবর্তন, পরিবর্ধন, পরিমার্জন ও এ নীতিমালার বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারবে।

এসএস