আজ (মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারি) গাড়িচালক-শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রসঙ্গ ধরেই ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘সচিবালয়ের প্রতি মানুষ এতো ক্ষুব্ধ... শুধু সচিবালয় নয়, সরকারি প্রতিটি দপ্তরের ওপর অনেক ক্ষুব্ধ জনগণ। আমাদের আমলাতন্ত্র জগদ্দল পাথরের মতো। এরা জনগণের বুকে চেপে বসে আছে। তাদের বিরুদ্ধে কিছুই করা যায় না।’
তিনি বলেন, ‘কোনোরকম মানবিক দায়িত্ববোধ আমলাতন্ত্রের মধ্যে নেই। সবাই সরকারি অফিসে যান, গাড়িতে চড়েন কিন্তু জনগণের দৈনন্দিন সমস্যাগুলো নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।’
আরও পড়ুন:
ক্ষুব্ধ হয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘চিঠি চালাচালি করেন। এ রুম থেকে ওই রুমে চিঠি যায়, সভা হয় সমিতি হয়, লাঞ্চ হয়, স্ন্যাক্স হয়। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। যত কিছুই করার চেষ্টা করেছি সব কিছু আটকে আছে।’
নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘এ যে সড়ক সংক্রান্ত নীতিমালাগুলো (স্ক্যাপ নীতিমালা) –এই নীতিমালার জন্য কতদিন ধরে আমি নিজে বসে ব্ল্যাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সবাইকে বুঝিয়ে বলেছি, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কিন্তু এখনো হচ্ছে না। কারণ তারা পরিবর্তন চান না। তারা চান তাদের সুযোগ-সুবিধা, পে-স্কেল বাড়াতে, দুর্নীতির সুযোগ বাড়াতে। কিন্তু সাধারণ মানুষ মরলেও সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথা ব্যথা নেই।’
এসময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছি। মনে করছি কিছুই হবে না, কিন্তু অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সামনে দুটি পথ— হয় আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে, না হলে প্রলয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আশা করি, আমরা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কাজ করবো।’





