নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই; বাতিল হচ্ছে অযোগ্য প্রার্থীদের

নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে
নির্বাচনে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই চলছে | ছবি: এখন টিভি
0

নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়ন যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চলছে পুরোদমে। মনোনয়ন বাতিল হচ্ছে অযোগ্য প্রার্থীদের। দেখা হচ্ছে প্রার্থী বিল বা ঋণ খেলাপি কী-না। তবে থাকছে আপিলের সুযোগ।

ঋণ খেলাপি হওয়ায় নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারা নিয়ে ছিল সংশয়। হাইকোর্টে ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম কাটানোর জন্য করেন আবেদন। তা খারিজ করে আদালত। পরে, চেম্বার আদালতে আবার আপিল করেন। এবার, আদালতের ঋণ খেলাপির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলে প্রার্থিতা নিয়ে বাধা থাকে না মান্নার। গত ৩০ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিল করেন বগুড়া-২ আসন থেকে।

এবার আবার বিপাকে মাহমুদুর রহমান মান্না। শুক্রবার যাচাই-বাছাই শেষে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। হলফনামায় তারিখের গরমিল থাকায় বাতিল করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এনিয়ে বগুড়া-২ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া সাত প্রার্থীর মধ্যে বাতিল হয়েছে চারজনের মনোনয়ন। তবে, এখনও আপিলের সুযোগ থাকছে মান্নার।

কুমিল্লা-১, ২, ৩, ৪ ও ৫ সংসদীয় আসনে মোট ১৪ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা। বাদ পড়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল। কুমিল্লা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র বৈধ হয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হাসনাত আব্দুল্লাহর। তার অভিযোগ, প্রশাসন একটি দলের দিকে ঝুঁকে গেছে। সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এনসিপির মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে যেমন নির্মহ, বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষমূলক আমরা যেভাবে আচরণ প্রত্যাশা করি, মনে হয়েছে, নির্বাচনে কতটা নিরপেক্ষ হবে, প্রশাসন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে, সেটি নিয়ে আমি শঙ্কা প্রকাশ করছি।’

আরও পড়ুন:

এদিকে কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আর কক্সবাজার-১ আসনে বাতিল হয়েছে দুইজনের মনোনয়নপত্র। তবে বৈধ হয়েছে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের মনোনয়ন। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতের আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘নির্বাচনের মাঠে সবার জন্য সমান লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশন এবং সরকার সবাইকে মিলে। রাজনৈতিক দলগুলো এবং জনগণ সবাইকে মিলে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। এখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং ভোটের অন্যান্য সহায়ক বাহিনী সবাই সহায়তা করবে।’

এদিকে ময়মনসিংহের তিনটি আসনে যাচাই বাছাই শেষে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শরিফুল ইসলামসহ পাঁচজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম-১ এ ৩ জন, চট্টগ্রাম-২ এ তিনজন, এবং চট্টগ্রাম -৩ আসনে বাতিল হয়েছে পাঁচজনের প্রার্থিতা।

এছাড়া বরিশাল সদরে বাসদের প্রার্থী ডা. মনিষা চক্রবর্তীর মনোনয়নপত্র স্থগিত করা হয়েছে। সম্পূর্ণ তথ্য দিতে তাকে সময় দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে টাঙ্গাইল-১ আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী মোহাম্মদ আলীসহ ৩ প্রার্থীর মনোনয়ন অবৈধ ঘোষণা করেছে রিটার্নিং কর্মকর্তা।

মনোনয়ন যাচাই বাছাই কার্যক্রম চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল শুরু হবে আগামী ৫ জানুয়ারি থেকে, চলবে ১১ জানুয়ারি থেকে।

এসএস