বেশিরভাগ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে রাজধানীর বাজারে। তবে চলতি সপ্তাহে টানা কয়েকদিন বৃষ্টি থাকায় বেড়েছে কাঁচামরিচ আর বেগুনের দাম। আজ (শুক্রবার, ৩ জুলাই) সকালে কারওয়ান বাজার ঘুরে দেখা যায় এমন পরিস্থিতি।
একজন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘আপনার গত সপ্তাহে মরিচ ছিল ৮০ টাকা আর ১০০ টাকা। এই সপ্তাহে মরিচ হয়েছে ১২০ টাকা আর ১০০ টাকা।’
তা ছাড়া লাউ, চিচিঙ্গা, ধুন্দল, করল্লাসহ বেশিরভাগ সবজি ৩০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আবার গাজর, টমেটোসহ অনেক সবজি ১০০ টাকার কমে মিলছে না।
আরও একজন সবজি ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত সপ্তাহে লাউ বেচছি ৬০ টাকা, এ সপ্তাহে লাউ ৪০ টাকা। মিষ্টি কুমড়ো গত সপ্তাহে বেচছিলাম ৯০ টাকা, ১০০ টাকা, এ সপ্তাহে হইলো ৮০ টাকা পিস। গত সপ্তাহে কলা বেচছি ৪০-৩৫, এ সপ্তাহে হলো ৩০-২৫ টাকা কলা। সব মালের দামই কম, শুধু টমেটো আর গাজরের দামটা বেশি।’
একজন ক্রেতা বলেন, ‘সবজির বাজার কিছুটা স্বস্তির দিকেই আছে। কিছু কিছু জিনিস একটু ঊর্ধ্বমুখী। লাইক পটল, বেগুন, ঢ্যাঁড়শ—যেগুলো রেগুলার আমাদের প্রয়োজনীয়, এগুলো মোটামুটি স্বস্তির দিকে। তো স্পেশাল কিছু কিনতে গেলে দাম বেশি।’
এদিকে, বোরো মৌসুম শেষ না হতে সপ্তাহের ব্যবধানে মানভেদে প্রায় সব ধরনের চালের দাম কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। সবচেয়ে বেশি বেড়েছে সুগন্ধি চালের দাম, ১২০ টাকার পোলাও চাল এখন বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা পর্যন্ত।
চাল ব্যবসায়ীরা জানান, সবচেয়ে তো বেশি বাড়ছে পোলাও চালটা। যে পোলাও চাল আগে বিক্রি করা হয়েছে ১২০ থেকে ১৩০ টাকা, সেই পোলাও চাল এখন ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।
সপ্তাহের ব্যবধানে খুচরা বাজারে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে ২০-৩০ টাকা। ব্রয়লার ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা কেজি, সোনালি ৩৫০ থেকে ৩৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গরু ৮০০ আর খাসির মাংস কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হচ্ছে ১২০০ টাকা।
মুরগি ব্যবসায়ী বলেন, ‘এক সপ্তাহের ভিতরে আপনার ব্যবধান হচ্ছে গিয়া ৩০ টাকা ব্রয়লারের কেজি প্রতি। এখন চলতেছে ১৮৫ থেকে ৯০ টাকা। পাকিস্তানি মুরগিটা সপ্তাহখানিক আগে বিক্রি করা হয়েছে ৩০০ টাকা ২৯০ টাকা, আজকে বিক্রি করা হয়েছে ৩৩০ টাকা ৩২০ টাকা।’
বাজার সহনীয় থাকলেও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। নিয়মিত বাজার তদারকির তাগিদ ভোক্তাদের।





