নির্বাচনে প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট কেন নয়, রুল জারি

ডোপ টেস্টের প্রতীকী ছবি
ডোপ টেস্টের প্রতীকী ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

নির্বাচনে সম্ভাব্য প্রার্থীদের ডোপ টেস্ট (মাদক পরীক্ষা) বাধ্যতামূলক কেন নয়, জানতে চেয়ে রুল দিয়েছেন হাইকোর্ট। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আজ (সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একইসঙ্গে আদেশে টেস্টে মাদকের বিষয় প্রমাণিত হলে বা ডোপ টেস্টে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার বিধান রেখে এ-সংক্রান্ত আইন, বিধি ও নির্দেশিকা সংশোধনের নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, রুলে তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্থানীয় সরকার সচিব, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সচিব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৬ আগস্ট বিবাদীদের আইনি নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। সাড়া না পেয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা চ্যালেঞ্জ করে জনস্বার্থে রিট করেন তিনি। রিটে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার জন্য প্রয়োজনীয় আইন, বিধি ও নির্দেশিকা প্রণয়ন বা সংশোধন না হওয়া পর্যন্ত আসন্ন সব নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

হাইকোর্টে শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার শিহাব উদ্দিন খান। আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী আইনজীবী ইসরাত জাহান অনি। পরে ইসরাত জাহান সাংবাদিকদের বলেন, ‘বর্তমান নির্বাচনী আইন ও বিধিমালায় প্রার্থীদের মাদক পরীক্ষার বিষয়ে কোনো স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা নেই। অথচ সরকারি চাকরিজীবী বা পুলিশ সদস্যদের নিয়োগের ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক। রিটের শুনানি নিয়ে আদালত শুধু রুল দিয়েছেন।’

রিটে বলা হয়, সংবিধানের ২১(১) অনুচ্ছেদ অনুসারে সংবিধান ও আইন মেনে চলা প্রতিটি নাগরিক ও সরকারি কর্মচারীর কর্তব্য। সরকারি চাকরিজীবী এবং চালকদের জন্য ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হলেও আইনপ্রণেতা এবং নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের এর আওতার বাইরে রাখা সংবিধানের এই অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

এতে আরও বলা হয়, দেশ ও মানুষের সেবার জন্য জনপ্রতিনিধিদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকা প্রয়োজন। একজন মাদকসেবী কখনো জনপ্রতিনিধি হতে পারেন না।

২০২৫ সালে ধূমপান ও মাদকবিরোধী ফাউন্ডেশন নির্বাচনে প্রার্থীদের হলফনামার সঙ্গে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট সংযুক্ত করার দাবি জানিয়ে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেছিল। সংগঠনটি মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের সময় ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছিল।


এফএস