পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক; তাহলে কি সমঝোতার আভাস?

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মাসুদ পেজেশকিয়ান ও ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম দিনে দেয়া ভাষণে ইরানকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রকেও চূর্ণবিচূর্ণের হুমকি দিয়েছে ইরান। অবশ্য পাল্টাপাল্টি এ হুমকির মধ্যেই নিউ ইয়র্কে তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। তাহলে কি যুদ্ধের উত্তাপের আড়ালে তৈরি হচ্ছে সমঝোতার পথ? নাকি আরও বড় সংঘাতের আগে কৌশলগত দর কষাকষি করছে ওয়াশিংটন ও তেহরান।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চে একদিকে কঠোর হুমকি, অন্যদিকে আলোচনার বার্তা—যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের বর্তমান চিত্র যেন এমনই। কেননা মঙ্গলবার জাতিসংঘে দেয়া ভাষণের প্রথম দিনেই তেহরানকে সরাসরি হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

অবশ্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্পষ্ট বার্তা, চুক্তিতে ফিরলে ইরানের জন্য অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। কিন্তু তা না হলে দেশটিকে দ্রুত ‘ধ্বংস’ করে দেয়ার পথও খোলা রাখছেন তিনি। আর ট্রাম্পের বক্তব্যের প্রতিবাদে জাতিসংঘ অধিবেশন থেকে বেরিয়ে যান ইরানি প্রতিনিধি দলের বেশিরভাগ সদস্য।

আরও পড়ুন:

কিন্তু কয়েক ঘণ্টা পরই সামনে আসে ভিন্ন এক চিত্র। নিউ ইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের সঙ্গে ইরানি কর্মকর্তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা বৈঠক হয়। আলোচনায় অংশ নেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আর বৈঠকটি খুব ভালো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন হুমকিদাতা ট্রাম্প।

অবশ্য ট্রাম্পের এমন দ্বিচারিতায় বসে নেই তেহরানও। পূর্বের চেয়ে ভয়াবহ হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চূর্ণবিচূর্ণ করার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরানের সামরিক বাহিনী। অবশ্য ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলছেন, সমস্যা সমাধানে হুমকি দেয়ার চেয়ে আলোচনাই কার্যকর অস্ত্র।

বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে আলোচনার কৌশলের অংশ। উভয়দেশই নিজেদের জনগণ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেখাতে চাইছে তারা চাপের কাছে নতি স্বীকার করে আলোচনায় বসেনি।

তবে প্রশ্ন হলো, এই পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান কি সত্যিই সমঝোতার পথে এগোচ্ছে নাকি কূটনীতির আড়ালেই চলছে পরবর্তী সংঘাতের প্রস্তুতি?

এসএস