ফ্লোরিডায় উদ্ধার হওয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মরদেহের স্থানে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার

পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন
পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা বৃষ্টি ও জামিল লিমন | ছবি: এখন টিভি
0

ফ্লোরিডার টাম্পা বে-র ওপর অবস্থিত একটি সেতুর কাছে জলপথে আরও একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ঠিক কয়েক দিন আগেই একই এলাকায় নিখোঁজ দুই বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থীর একজনের মরদেহ পাওয়া গিয়েছিল। হিলসবোরো কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় গতকাল (রোববার, ২৬ এপ্রিল) রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ইন্টারস্টেট-২৭৫ সংলগ্ন এলাকার জলপথ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে মরদেহটির পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

এর আগে গত শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকালে হাওয়ার্ড ফ্র্যাংকল্যান্ড ব্রিজের নিচে জামিল লিমনের দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনার পর হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরে জানিয়েছিলেন, লিমনের বন্ধু নাহিদা বৃষ্টির সন্ধানে তল্লাশি অব্যাহত থাকবে। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই আইন প্রয়োগকারী বাহিনীর ডুবুরি দল সেতুর পাশের উপসাগরে তল্লাশি চালাচ্ছিলো।

এদিকে এই দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে তাদের রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহর (২৬) বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ দু’বার প্রথম ডিগ্রির পূর্বপরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) শেরিফের কার্যালয় এ ঘোষণা দেয়।

আরও পড়ুন:

দক্ষিণ ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইউএসএফ) সাবেক এই শিক্ষার্থীকে বর্তমানে জামিনবিহীন অবস্থায় কারাগারে রাখা হয়েছে এবং আগামীকাল (মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল) তার শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে।

নিহত জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টি (উভয়ই ২৭) বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। গত ১৬ এপ্রিল তারা ক্যাম্পাস থেকে নিখোঁজ হন।

লিমন ভূগোল, পরিবেশ বিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে এবং বৃষ্টি কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডক্টরাল অধ্যয়নরত ছিলেন। বৃষ্টি নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট ছিলেন।

আরও পড়ুন:

হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। শুক্রবার একটি পারিবারিক সহিংসতার রিপোর্টের প্রেক্ষিতে তার পরিবারের বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি জামিল লিমনের সঙ্গে একই অ্যাপার্টমেন্টে থাকতেন। তার বিরুদ্ধে মৃতদেহ বেআইনিভাবে সরানো, মৃত্যু সংবাদ জানাতে ব্যর্থ হওয়া, প্রমাণ নষ্ট করা এবং শারীরিক আঘাতের মতো আরও গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আবুগারবিয়েহ ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ইউএসএফ-এ ম্যানেজমেন্ট বিভাগে অধ্যয়নরত ছিলেন। বর্তমানে তার কোনো আইনজীবী বা প্রতিনিধিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এসএস