সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রথমবারের মতো এ বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, মার্কিন বিতর্কিত ফাইন্যান্সিয়ার জেফরি এপস্টেইন ইসরাইলের জন্য কখনো কাজ করেননি। ফাইন্যান্সিয়ার মূলত অন্যের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে ব্যবসা করে থাকে। সম্প্রতি টিআরটি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন:
মোসাদের গুপ্তচর এপস্টিন
ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব জাস্টিসের প্রকাশিত নতুন ফাইলে দেখা যায়, ২০২০ সালের এক এফবিআই নথিতে প্রাক্তন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারকের অধীনে এপস্টেইন “গুপ্তচর হিসেবে প্রশিক্ষণ” নিয়েছিলেন। পাশাপাশি তাকে ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার (মোসাদ) সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহ ছিলো এফবিআইয়ের।
ওই নথিতে মার্কিন নির্বাচনে সম্ভাব্য বিদেশি ও অভ্যন্তরীণ প্রভাবের তথ্যসহ এপস্টেইন ও হার্ভার্ডের আইন অধ্যাপক অ্যালান ডারশোইটজের ফোনালাপের কথাও উল্লেখ রয়েছে, যা ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পৌঁছানো হয়েছিল।
সম্প্রতি জেরুজালেম পোস্টের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৫ ও ২০১৬ সালে নিউইয়র্কে একাধিকবার এপস্টেইনের ম্যানহাটনের বাসভবনে ইহুদ বারককে প্রবেশ করতে দেখা যায়। এপস্টেইনের প্রথম দণ্ডের বহু বছর পর এসব সাক্ষাৎ নতুন করে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া প্রকাশিত ছবিতেও বারকের উপস্থিতি দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া এ অভিযোগগুলোকে আরও জোরালো করেছেন সাবেক ইসরায়েলি গোয়েন্দা কর্মকর্তা আরি বেন-মেনাশে। তিনি দাবি করেছেন, ১৯৮০-এর দশক থেকেই জেফরি এপস্টেইন ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী গিসলেন ম্যাক্সওয়েল ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিল।
এদিকে বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এক্সের এক পোস্টে প্রাক্তন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী ইহুদ বারককে আক্রমণ করে বলেন, ‘এপস্টেইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক ইসরাইলের পক্ষে কাজের প্রমাণ নয়, বরং বারকের রাজনৈতিক স্বার্থ ও সরকারবিরোধী কার্যক্রমেরই নিদর্শন মাত্র।’
আরও পড়ুন:
নেতানিয়াহু অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘ইহুদ বারক দীর্ঘদিন ধরেই তার সরকারকে দুর্বল করার চেষ্টা করে আসছেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে নির্বাচনে পরাজয়ের ক্ষোভ থেকে বের হতে পারেননি বারক। তিনি প্রকাশ্যে ও গোপনে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন উসকে দেয়ার কাজে জড়িত রয়েছেন।’
নতুনভাবে প্রকাশিত তিন মিলিয়নের বেশি এপস্টেইন ফাইল বিশ্বব্যাপী এপস্টেইনের নেটওয়ার্ক ও তার সঙ্গে উচ্চপদস্থ সংযোগগুলোকে নিয়ে আলোচনা আবারও উসকে দিয়েছে।



