আটক পাঁচ বছর বয়সী লিয়াম কোনেজো রামোসের স্কুল কর্তৃপক্ষ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শিশুটির পরিবারের রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন। নিয়ম অনুযায়ী, তাদের বিরুদ্ধে কোনো চূড়ান্ত বহিষ্কারাদেশ না থাকলেও মঙ্গলবার লিয়ামকে তার প্রিস্কুল থেকে ফেরার পথে ড্রাইভওয়েতে বাবাসহ আটক করা হয়।
কলম্বিয়া হাইটস পাবলিক স্কুল ডিস্ট্রিক্টের কর্মকর্তারা দাবি করেন, আটকের সময় বাড়ির অন্য একজন সদস্য শিশুটিকে নিজের হেফাজতে নিতে চাইলেও এজেন্টরা তাতে অস্বীকৃতি জানায়। পরিবর্তে, লিয়ামকে দিয়ে বাড়ির দরজায় টোকা দিতে বাধ্য করা হয় যাতে ভেতরে থাকা অন্য কাউকে শনাক্ত ও আটক করা যায়।
স্কুল বোর্ড চেয়ার মেরি গ্র্যানলান্ড আইসের এই নিষ্ঠুর আচরণের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, ‘একটি ৫ বছরের শিশুকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করা অমানবিক।’
আরও পড়ুন:
তবে ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি এ অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা ইকুয়েডরের নাগরিক অ্যাড্রিয়ান আলেকজান্ডার কোনেজো আরিয়াসকে আটক করতে অভিযান চালায়। তাদের দাবি, এজেন্টরা কাছে পৌঁছালে আরিয়াস তার সন্তানকে ফেলে পালানোর চেষ্টা করেন। ফলে শিশুটির নিরাপত্তার স্বার্থেই তাকে হেফাজতে নেয়া হয়। বর্তমানে বাবা ও ছেলে উভয়ই সরকারি ডিটেনশন সেন্টারে রয়েছে।
এদিকে ওই একই স্কুল ডিস্ট্রিক্ট থেকে গত দুই সপ্তাহে লিয়ামসহ আরও তিন শিক্ষার্থীকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ বছর বয়সী এক চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী এবং ১৭ বছর বয়সী এক হাইস্কুল শিক্ষার্থীও রয়েছে। জানা গেছে, ১০ বছর বয়সী ওই মেয়েটিকে তার মায়ের সঙ্গে স্কুল যাওয়ার পথ থেকে তুলে সরাসরি টেক্সাসের একটি ডিটেনশন সেন্টারে পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।
২০২৬ সালের শুরু থেকে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন বিরোধী অভিযান নতুন করে জোরদার হওয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন ভাষাভাষী অভিবাসীদের মধ্যে উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। স্কুল ও বাস স্টপেজগুলোর মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে আইসের উপস্থিতি শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন স্থানীয় সমাজকর্মীরা।





