অভিবাসীদের ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযানের জেড়ে এভাবেই ফুঁসে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র। নিউইয়র্ক, শিকাগো থেকে শুরু করে ওরল্যান্ডো, ওহাইও, বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে সবখানেই। এমনকি ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউজের সামনেও হয়েছে বিক্ষোভ।
ঘটনার সূত্রপাত গত বুধবার (৭ জানুয়ারি)। এদিন মিনেসোটা শহরের মিনেপোলিসে অভিবাসন এজেন্টের গুলিতে নিহত হন ৩৭ বছর বয়সি এক নারী। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করে অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অভিযানের সময় কর্মকর্তাদের ওপর আক্রমণ করলে, তারা আত্মরক্ষায় গুলি চালাতে বাধ্য হয়। তবে ঘটনার পর পরই সেখান থেকেই শুরু হয় ব্যাপক বিক্ষোভ, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পরে পুরো যুক্তরাষ্ট্রে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওয়াশিংটনের রাস্তায় জড়ো হয়ে ট্রাম্প বিরোধী স্লোগান দিতে দিতে হোয়াইট হাউজের সামনে মিলিত হন শত শত বিক্ষোভকারী। অন্যদিকে হিমশীতল বৃষ্টি আর তুষারপাত উপেক্ষা করে মিনেপোলিসের রাস্তায় ‘আইসিই আউট’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস’ লেখা প্যাকার্ড নিয়ে বিক্ষোভ করেন হাজারও মানুষ।
নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটনে জড়ো হয়ে জনগণ অভিবাসন সংস্থাকে এই হত্যাকণ্ডের জন্য দায়ী করেন এবং শহর ছেড়ে যেতে বলেন। এদিকে বৃহস্পতিবার লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল ভবনের সামনে ধর্মীয় নেতারা এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সদস্যরা মিনেপোলিসের হত্যাকাণ্ডে নিন্দা জানাতে জড়ো হন। বিক্ষোভকারীরা তদন্ত অব্যাহত রাখার ও জবাবদিহিতার দাবি জানান।
এদিকে যতই বিক্ষোভ হোক, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অভিবাসন এজেন্টদের পক্ষেই আছেন বলে জানিয়েছেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স।
আরও পড়ুন:
তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট আইসিই-এর সঙ্গে আছেন। আমি আইসিই-এর সঙ্গে আছি। আমরা আমাদের সব আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আছি। এর একটি অংশ হলো স্বীকার করা যে মিডিয়ার অনেকেই এ আক্রমণ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলছে। তিনি এ লোকটিকে তার গাড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করছিলেন। সে পাল্টা গুলি চালায়। সে নিজেকে রক্ষা করে।’
এদিকে এ হত্যাকাণ্ডে চলমান তদন্ত দেশটির কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই আটকে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে মিনেসোটা কর্মকর্তারা। বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ বলেন, মিনিয়াপোলিসের হত্যাকাণ্ডে রাজ্যের অপরাধ তদন্ত বিভাগকে অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।
এদিকে অভিবাসন কর্মকর্তার গুলিতে নিহতের ঘটনায় বিক্ষোভে উত্তাল যখন দেশ, তখন ওরল্যান্ডোর পোর্টল্যান্ডে ফেডারেল এজেন্টদের গুলিতে আহত হয়েছেন ২ জন। এবারও ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি আত্মরক্ষায় গুলি চালানো হয়েছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ডিপার্টমেন্ট জানায়, এজেন্টদের গাড়ি দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করলে তারা গুলি চালায়। এই ঘটনায় চলমান বিক্ষোভ আরও ঘনীভূতের আশঙ্কা করা হচ্ছে।





