যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ইউএসএআইডি'র হেডকোয়ার্টারের দৃশ্য এটি। অফিস থেকে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে বের হয়ে যাচ্ছেন সদ্য চাকরিচ্যুত এজেন্সি কর্মীরা। তাদের প্রেরণা যোগাতে 'আই লাভ ইউএসএআইডি' লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে ভবনের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন কয়েকজন।
এর আগে দুই হাজারেরও বেশি ইউএস এজেন্সি কর্মীকে অপসারণের নির্দেশ দেয় ট্রাম্প প্রশাসন। এই সিদ্ধান্ত স্থগিতে কর্মীদের ইউনিয়ন আপিল করলেও শুক্রবার এক ফেডারেল বিচারক তা নাকচ করে দিয়েছেন। তবে সরকারি ব্যয় কমাতে নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ইলন মাস্কের এই কর্মী ছাঁটাই অভিযান ভালো চোখ দেখছেন না রিপাবলিকান ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত জর্জিয়ার আইনপ্রণেতারা। ডিস্ট্রিক্ট টাউনহলে ট্রাম্প ও মাস্কের সাফাই দিতে গিয়ে প্রতিপক্ষের বাক্যবাণে জর্জরিত হয়েছেন রিপাবলিকান নেতারা।
শুধু এজেন্সি কর্মী বা সরকারি আমলা নন, ট্রাম্পের কাটছাঁট অভিযান ও শীর্ষপদে অদল-বদল জারি আছে প্রতিরক্ষা বিভাগেও। শুক্রবার জয়েন্ট চিফস অব মিলিটারি স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল সি.কিউ. ব্রাউনকে অপসারণের ঘোষণা দিয়েছেন নয়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া পোস্টে নিশ্চিত করেন এই পদে লেফটেন্যান্ট ড্যান কেইনকে মনোনীত করেছেন তিনি।
কর্মী ছাঁটাই অভিযান চলবে পেন্টাগনেও। শুক্রবার রয়টার্স জানায়, আগামী সপ্তাহ নাগাদ প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে তারা। শুধু তাই নয়, নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিতের পাশাপাশি কর্মীসংখ্যা পাঁচ থেকে আট শতাংশ কমানোর নির্দেশ এসেছে বর্তমান ট্রাম্প প্রশাসনের তরফ থেকে।
এছাড়া স্বাধীন সরকারি দপ্তর ইউএস পোস্টাল সার্ভিসকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। ওয়াশিংটন পোস্ট জানায়, এতে করে ডাক বিভাগের দায়িত্ব চলে যাবে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বিলিওনিয়ার হাওয়ার্ড লুটনিকের কাছে। শুক্রবারই বাণিজ্য মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তিনি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাম্পও। সেখানেই আভাস দেন, সরকারি অর্থের নয়ছয় ঠেকাতে অচিরেই একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করবেন তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, 'এমন একটি ডাক বিভাগ প্রয়োজন যেখানে কাজ হয়। অযথাই অর্থ অপচয় হয় না। এ নিয়ে একটি সিদ্ধান্ত এসেছি। ডাক বিভাগ আগের মতোই থাকবে কিন্তু অন্য একটি দপ্তরের অধীনে চলে যাবে। এতে করে এত বছরের অচলাবস্থা কাটবে। এই ডাক বিভাগের কারণে দেশের মানুষ চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।'
পাশাপাশি, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ওপর ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স আরোপ করে আসছে এমন দেশের পণ্যে আমদানি শুল্ক আরোপ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। এরইমধ্যে নবনিযুক্ত বাণিজ্য মন্ত্রীকে এ নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প। গেল সপ্তাহে কানাডা ও ফ্রান্সের আরোপ করা ডিজিটাল শুল্কের একটি বিবরণ হাজির করে হোয়াইট হাউজ। সেখানে দেখা যায়, বছরে কানাডা বা ফ্রান্সকে ৫০ কোটি ডলারেরও বেশি ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে আগামী সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি), ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করবেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। ৩ দিন পর বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।