মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার জবাবের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের, হরমুজে হামলার ভাবনা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজে সীমিত হামলার কথাও বিবেচনা করছেন তিনি। তার দাবি, ইরান এখন একটি ব্যর্থ রাষ্ট্র, দুর্বল হয়ে পড়েছে তাদের সামরিক নেতৃত্ব। অন্যদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানি খার্গ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার অভিযোগ তুলেছে তেহরান। যদিও এমন দাবি অস্বীকার করেছে আমিরাত। এর মধ্যেই, হরমুজে তিন অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি ট্যাঙ্কার বিধ্বস্তের খবর মিলেছে।

আবারও আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর উত্তেজনার পারদ। ক্রমশ জটিল হচ্ছে পরিস্থিতি।

এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জর্ডানের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কঠোর জবাব দেবে মার্কিন বাহিনী। ইরানের সামরিক সক্ষমতা গুড়িয়ে দিতে হরমুজে সীমিত হামলার কথাও বিবেচনা করছেন তিনি।

ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকে একটি ‘ব্যর্থ ও মৃত রাষ্ট্র’ হিসেবেও উল্লেখ করেছেন তিনি। তার দাবি, মারাত্মক দুর্বল হয়ে পড়েছে তেহরানের সামরিক নেতৃত্ব ও সামগ্রিক শাসনব্যবস্থা। ইরানি কর্মকর্তারা নিজেরাই জানেন না দেশের দায়িত্বে কে আছেন। দেশটির নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী কার্যত ধ্বংস হয়ে গেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘সঠিক সময়ে, আমরা হয় জিতবো, নয়তো ওরা কিছু একটা করবে। জিততে আমার কোনো আপত্তি নেই। শুধু জিতলেই হলো, এজন্য কোনো কাগজে সইয়ের দরকার নেই। আমরা খুব ভালো করছি। ইরানের নৌবাহিনী শেষ। বিমানবাহিনী শেষ। তাদের নেতারাও শেষ। সমস্ত বিমান-বিধ্বংসী ব্যবস্থা ধ্বংস। সবকিছু নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। তবে ওরা বুদ্ধিমান লোক।’

এছাড়া ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানিয়েছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সাম্প্রতিক পোস্টে খার্গ দ্বীপ উড়িয়ে দেয়ার বক্তব্যে মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানিদের কিছু বার্তা দিতে চেয়েছেন। তিনি কখনও সোশ্যাল মিডিয়ায় সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন না।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, ‘আসলে প্রেসিডেন্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় মাঝে মাঝে একটু ভিন্ন ধরনের কথা বলেন। তবে তিনি কখনও সেখানে সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেন না। আমার মনে হয়, তিনি ইরানিদের বার্তা দিচ্ছেন, বাণিজ্যিক জাহাজেগুলো চালানো অব্যাহত রাখলে তা বন্ধ করাতে আমাদের হাতে এখনও অনেক উপায় রয়েছে। এটা বন্ধ করতে হবে, নইলে পরিণতি ভোগ করতে হবে।’

তবে ইরানের সামরিক ও রাজনৈতিক কর্মকর্তারা ট্রাম্পের এমন দাবি প্রত্যাখ্যান করে জানান, দেশের নেতৃত্ব কাঠামো ও সরকার পুরোপুরি সচল। আগের চেয়েও অপ্রতিরোধ্য রূপে কঠোর জবাব দেবে ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এছাড়া নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইরানি অর্থনীতির ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে ইরানের খার্গ ও আবু মুসা দ্বীপে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন। আরাঘচির দাবি, আমিরাতের রাস আল-খাইমা ও দুবাইয়ের কাছাকাছি একটি জনবহুল এলাকা থেকে এ হামলা চালানো হয়। তার দাবি, জিপিএস-নির্দেশিত দীর্ঘ-পাল্লার জিএমএলআরএস ও হিমার্স রকেট ব্যাবহার করেছে মার্কিন বাহিনী। আর ইরানি সামরিক বাহিনী এ হামলার গতিপথ ট্র্যাক করে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পেয়েছে।

জনবহুল এলাকার কাছাকাছি থেকে এমন হামলা ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ ও ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও উল্লেখ করেন আরাঘচি। যদিও ইরানের এমন দাবি জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে তবে আমিরাত সরকার। তারা জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ড বা আকাশসীমা কোন সামরিক অভিযানের জন্য ব্যবহার করতে দেয়া হয়নি।

এর মধ্যেও হরমুজে তিন অজ্ঞাত বস্তুর আঘাতে একটি ট্যাংকার বিধ্বস্তের খবর মিলেছে। তবে কোনো হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি। এছাড়া ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি দাবি করেছে, দেশটির নতুন উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন এমকিউ নাইন ড্রোন ভূপাতিত করেছে আইআরজিসি।

এসএস