ধর্ম , মধ্যপ্রাচ্য
বিদেশে এখন

ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই ঈদ কেটেছে গাজাবাসীর

ধ্বংসস্তুপের মধ্যেই ঈদ পালন করেছে গাজাবাসী। তাদের মাঝে নেই কোনো আনন্দের চিহ্ন। ঘরবাড়ি, অর্থ সম্পদ হারিয়ে নিঃস্ব ফিলিস্তিনিদের কোরবানি দেয়ার সামর্থ্য নেই। অনাহারে-অর্ধাহারে কেটেছে তাদের ঈদ। এমন করুণ চিত্র গাজার প্রায় প্রতিটি ঘরে।

টানা ৮ মাস ধরে ইসরাইলি হামলায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয়েছে গাজা উপত্যকা। এরমধ্যেই ঈদুল আজহা পালন করলো গাজাবাসী। ঈদের দিনেও বন্ধ নেই হামলা। ঢুকতে দেয়া হচ্ছে না ত্রাণের ট্রাক। ঈদের খুশি তো দূরে থাক প্রতি মুহূর্তে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ফিলিস্তিনিরা। ঈদ উদযাপনের কিছুই আর অবশিষ্ট নেই গাজায়।

যুদ্ধে সহায়-সম্বল হারিয়ে টিকে থাকার লড়াইয়ে ব্যস্ত গাজার অধিবাসীরা। কোরবানির পশু বা নতুন পোশাক কেনার জন্য অর্থ নেই তাদের। হত্যা-ধ্বংসযজ্ঞের মাঝে পরিবার-পরিজন ছাড়া ঈদের আনন্দ রূপ নিয়েছে শোক আর যন্ত্রণার।

হাতে অর্থ নেই, কাজ নেই, ঘর-বাড়ি মিশে গেছে মাটিতে। ইসরাইলি হামলায় অবরুদ্ধ গাজার প্রতিটি ঘরে এখন শোকের ছায়া। গাজাবাসীদের নেই কোনো ঈদ, শুধু বিশুদ্ধ পানি, খাবার ও বাসস্থানের জন্য হাহাকার।

গাজার এক বাসিন্দা বলেন, 'পরিবারের সবাই মিলে আমরা ঈদ উদযাপন করতাম। কিন্তু এবার ঘর-বাড়ি হারিয়ে সবাই উদ্বাস্তু। ঘরে খাবার নেই। ছেলে মেয়ে পাশে নেই। এটা কিসের ঈদ!'

রামাল্লার এক দোকান মালিক জানান, গত বছরের চেয়ে এবার তার বিক্রি কমেছে ৭০ শতাংশ। বিশাল মূল্যছাড় দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এক খামারি জানান, পশুর দাম বেড়েছে প্রায় দশগুণ। ইসরাইলি বোমার আঘাতে ও খাদ্য সংকটে মারা গেছে অনেক পশু।

গাজার দোকানপাট আগেই ধ্বংস হয়ে গেছে। যে দুই-একটি আছে, সেগুলোও বন্ধ। কোরবানি পশু জবাই করে বিভিন্ন পরিবারের মধ্যে মাংস বিতরণ করেছে কিছু দাতব্য সংস্থা। যুদ্ধের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের এটি দ্বিতীয় ঈদ। যুদ্ধ, ধ্বংস, শোক ও ভঙ্গুর অর্থনীতিতে ধুঁকছে গাজা।

এভিএস

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর