নিরাপত্তা সংকটে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান ম্যাক্রোঁর

ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় জাতীয় দিবস
ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় জাতীয় দিবস | ছবি: সংগৃহীত
0

কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির মুখে দাঁড়িয়ে আত্মরক্ষায় সর্বোচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত ইউরোপ। অঞ্চলটির প্রায় ৩০ দেশের নেতাকে সঙ্গে নিয়ে ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় জাতীয় দিবসের বার্তায় এমন মন্তব্য করলেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। অন্যদিকে রুশ ও মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ঐক্য আর আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞার বার্তা দিয়েছেন ইউরোপীয় নেতারা।

গতকাল (মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই) প্রথম প্রহরে ফ্রান্সের আইকনিক আইফেল টাওয়ার প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য আতশবাজি আর শত শত ড্রোন দিয়ে আকাশে নানা আদলে রঙিন প্রতিকৃতির প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় জাতীয় দিবস বাস্তিল ডে উদযাপন। দু’দিন ধরে চলছে নানা আয়োজন।

ফরাসি বিপ্লবের অন্যতম ঘটনাবহুল দিন ছিল ১৭৮৯ সালের ১৪ জুলাই। বাস্তিল কারাগারে রক্তক্ষয়ী হামলার সেই দিনটি স্মরণে প্রতি বছর ফ্রান্সে এ দিন থাকে জাতীয় ছুটি। দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজ দেখলেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধে ইউক্রেনকে সহযোগিতার লক্ষ্যে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ বৈঠকে অংশ নেয়া ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিক মার্জ, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারসহ অন্তত ৩০ দেশের নেতারা ফরাসি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন কুচকাওয়াজে; ফরাসি সেনাদের সঙ্গে মাঠ কাঁপায় পশ্চিমা এসব দেশের ৫০০ সেনাও।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের খবর, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইউরোপের ঐক্য আর আত্মরক্ষায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হওয়ার বার্তা এই সম্মিলিত প্রদর্শনী।

আরও পড়ুন:

ইউরোপে বসবাসকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমার মনে হয় যে আজকের দিনটিতে শক্তি প্রদর্শন জরুরি। যেমনটা প্রেসিডেন্ট বলেছেন যে যদি আমরা সম্মানিত হতে চাই, আমাদের কিছুটা শক্তি তো দেখাতে হবে। তাই বিশ্বকে, বিশেষ করে আমাদের সম্ভাব্য শত্রু যারা- তাদের, এ বার্তা দেয়া জরুরি। ইউরোপের শান্তি ও স্বাধীনতা আমাদেরই নিশ্চিত করতে হবে।’

আয়োজনজুড়ে ছিল রাশিয়ার আগ্রাসনের শিকার ইউক্রেনের জয়জয়কার। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ও কুচকাওয়াজে অংশ নেয়া তার সেনাদের সম্মান জানান ইউরোপের নেতারা। জেলেনস্কিকে জড়িয়ে ধরেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ। ইউরোপের ক্রমবর্ধমান কঠোর নিরাপত্তা নীতির আভাস দিয়ে এর আগে ম্যাক্রোঁ জানান, কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর হুমকির সম্মুখীন মহাদেশটি; আত্মরক্ষায় সর্বোচ্চ মূল্য দিতেও প্রস্তুত।

ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘আমরা বিশ্বকে যে বার্তা দিচ্ছি তা হলো, শান্তিই আমাদের লক্ষ্য। আমরা স্বাধীনতা ও আইনের শাসনকে শ্রদ্ধা জানাই এবং এগুলো রক্ষার জন্য লড়াই করতে প্রস্তুত, প্রয়োজনে রক্তের বিনিময়েও।’

সেনাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমরা কতোটা নির্ভুলতার সঙ্গে কাজ করতে সক্ষম, সেটাই আমরা দেখাচ্ছি এই প্রদর্শনীতে অংশ নিয়ে। যখন আমরা পারমাণবিক অভিযান চালাবো, তখন ঠিক এভাবেই নির্ভুলভাবে আমরা কাজ করবো এবং দক্ষতার পরিচয় দেবো।’

অন্য একজন সেনা বলেন, ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রথম এত বড় যুদ্ধে জড়িয়েছে এ অঞ্চল। এটা উদ্বেগজনক। আমাদের কাজ হলো যেকোনো ধরনের পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা। যদিও আমি জোর দিয়ে বলছি যে আমরা প্রতিরক্ষায় ঐক্যবদ্ধ, কিন্তু কারো প্রতি কোনো হুমকি নই।’

আগামী বছর ক্ষমতা থেকে বিদায়ের আগে এবার শেষবারের মতো দায়িত্বে থেকে বাস্তিল ডে উদযাপন করলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট। আয়োজনের এক পর্যায়ে সাধারণের ভিড়ে মিশে জনতার সাথে কুশল বিনিময় করেন তিনি, নেন অভিবাদন।

এসএস