২০২৪ সালে স্পেন উপকূলের কাছে ডুবে যাওয়ার পর থেকে রহস্যেই আবৃত ছিলো রুশ জাহাজ উরসা মেজরের পরিণতি। তবে, সম্প্রতি এই ঘটনা নিয়ে মার্কিন সংবাদ মাধ্যম সিএনএনের এক তদন্ত প্রতিবেদনে প্রকাশের পর জাহাজটি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। তদন্তে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, জাহাজটি গোপনে উত্তর কোরিয়ায় সাবমেরিনের পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ পরিবহন করছিলো। যা নিয়ে শুরু থেকেই নীরব থেকেছে রাশিয়া। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও।
স্পেন উপকূল থেকে প্রায় ৬০ মাইল দূরে ডুবে যাওয়ার আগে একাধিক বিস্ফোরণ ঘটে স্পার্টা-৩ নামে পরিচিত রুশ জাহাজটিতে। ঘটনাস্থলে নিহত হন দু’জন ক্রু। স্পেনের দুটি নৌযান ও একটি হেলিকপ্টার জাহাজের ১৪ জন ক্রুকে উদ্ধার করে দেশটির কার্তাজেনা বন্দরে আনে।
তবে সন্দেহ আরও দানা বাঁধে যখন,জাহাজটি ডুবে যাওয়ার এক সপ্তাহ পর, একটি রুশ গুপ্তচর জাহাজ এর ধ্বংসাবশেষ পরিদর্শন করে এবং আরও চারটি বিস্ফোরণ ঘটায়। এছাড়া স্পেনের নৌবাহিনী জানায়, দেশটির জলসীমায় প্রবেশের আগে পর্তুগিজ নৌবাহিনীও জাহাজটির ওপর নজর রাখছিলো।
এছাড়া, জাহাজের ধ্বংসাবশেষ ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক সামরিক তৎপরতা এই রহস্যকে আরও গভীর করে তোলে। প্রকাশিত ফ্লাইট ডেটা অনুসারে, মার্কিন পারমাণবিক স্থাপনা শনাক্তকারী বিমান গত এক বছরে দুইবার ডুবে যাওয়া জাহাজটির উপর দিয়ে উড়েছে।
আরেকদিকে, স্প্যানিশ ন্যাশনাল সিসমিক নেটওয়ার্ক জানায়, উরসা মেজর ডুবে যাওয়ার সময়, ওই এলাকায় চারটি একই ধরনের ভূকম্পের সংকেত শনাক্ত করা হয়। যেগুলোর ধরন পানির নিচের মাইন বা ভূপৃষ্ঠের খনির বিস্ফোরণের মতো ছিলো।
উরসা মেজর পণ্যতালিকায় দুটি বড় ম্যানহোল কভার, ১২৯টি খালি কন্টেইনার এবং দুটি ভারী ক্রেনের কথা উল্লেখ ছিল। তবে স্প্যানিশ তদন্ত সূত্র অনুসারে, রিয়্যাক্টরগুলো ছিলো ভিএম-৪এসজি মডেলের। যা রাশিয়ার ডেল্টা ফোর শ্রেণির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রবাহী পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিনগুলোতে দেখা যায়।
এদিকে, সরকার বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ক্রমাগত চাপের মুখে গেল ২৩শে ফেব্রুয়ারি এক বিবৃতি্তে স্প্যানিশ সরকার জানায়, জাহাজটির রুশ ক্যাপ্টেন তদন্তকারীদের সেটিতে সাবমেরিনে ব্যবহৃত দুটি পারমাণবিক চুল্লির যন্ত্রাংশ বহনের কথা স্বীকার করেছেন।



-320x167.webp)

