নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ইতালির রাজধানী রোমের জেমেলি হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বিশ্বের রোমান ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের সর্বোচ্চ ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিস।
তার দু'টি ফুসফুসই নিউমোনিয়ার আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি, এবার রক্ত পরীক্ষায় কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ পাওয়ার খবরে রীতিমতো উদ্বিগ্ন তার ভক্ত ও অনুরাগীরা। অশ্রুসিক্ত পোপের নিজ দেশ আর্জেন্টিনার বাসিন্দারাও। সবার একটাই চাওয়া, যেন সুস্থ হয়ে আবারও ভ্যাটিকানে ফিরে আসেন ৮৮ বছর বয়সী এই ধর্মগুরু।
স্থানীয় একজন বলেন, 'পোপ একজন বিশ্বাসী ব্যক্তি, তিনি খারাপ থাকলে আমরা কীভাবে ভালো থাকি। আমরা চাই কিছুতেই যেন আমাদের প্রধান ধর্ম গুরুকে অসুস্থ অবস্থায় কষ্ট ভোগ করতে না হয়। তার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি।'
অন্য একজন স্থানীয় বলেন, 'অন্যদের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করা মহামানব পোপ ফ্রান্সিস। তাই তার গুরুতর অসুস্থতায় আমরা কেউই ভালো নেই।'
সময় যতোই গড়াচ্ছে ততোই শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে পোপ ফ্রান্সিসের। হাসপাতালে টানা ১০ দিনের বেশি সময় ধরে চিকিৎসা চলমান থাকায় বিশ্বের ক্যাথলিক খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সবার দুশ্চিন্তা বাড়ছে। সৃষ্টিকর্তার কাছে দু'হাত তুলে প্রার্থনার মাধ্যমে পোপের দ্রুত সুস্থতার আর্জি জানাচ্ছেন তারা।
একজন খ্রিষ্টান বলেন, 'আমার চাই তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন। তাঁর কাছ থেকে আমাদের এখনও অনেক কিছু শেখার বাকি আছে।'
এমন পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, কিডনি বিকল হওয়ার লক্ষণ মিললেও, এখনই হাল ছড়ছেন না তারা। তবে শ্বাসকষ্টের কারণে পোপ ফ্রান্সিসকে উচ্চ মাত্রায় অক্সিজেন দিতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ।
রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যাওয়া, নিউমোনিয়া ও ফুসফুসের সংক্রমণ সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে পোপ ফ্রান্সিস গেল ১৪ই ফেব্রুয়ারি ভর্তি হন রোমের জেমেলি হাসপাতালে। একযুগ ধরে রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন আর্জেন্টিনার নাগরিক পোপ ফ্রান্সিস। গেল সপ্তাহে নিজেই সতর্ক করে দিয়েছিলেন, এ যাত্রায় তার বাঁচার সম্ভাবনা কম। এরপরই তাঁর শেষকৃত্যের মহড়ার জন্য প্রস্তুতি শুরুর কথাও জানায় ভ্যাটিকান কর্তৃপক্ষ।