মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে একটানা বৃষ্টি আর আকস্মিক বন্যার কারণে মারাত্মক বিপর্যয়ের কবলে ভারতের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণাঞ্চল। কেরালা থেকে আসাম, ঝাড়খণ্ড থেকে গুজরাট- পানিবন্দি লাখ লাখ মানুষ।
এর মধ্যে সবচেয়ে বিপর্যস্ত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসাম। অব্যাহত বন্যায় প্রাণহানি ছাড়িয়েছে ১০০। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি জেলায় জারি রয়েছে সর্বোচ্চ সতর্কতা। বন্যাকবলিত দেড় লাখেরও বেশি মানুষ। ধনশিরি নদীর পানি বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে শিবসাগর, গোলাঘাট, চরহাইডু, জোরহাট, এবং কামরূপ অঞ্চল। প্লাবিত প্রায় ৫০০ গ্রাম। গুয়াহাটির বিভিন্ন অংশ এখনও জলমগ্ন। তলিয়ে গেছে সাড়ে ১৪ হাজার হেক্টরেরও বেশি কৃষিজমি, ভেসে গেছে বহু গবাদিপশু। ধসে গেছে সাড়ে ৩০০’র বেশি বসতবাড়ি।
দুর্গত এলাকায় উদ্ধার ও ত্রাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রাজ্য সরকার ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। চালু করা হয়েছে ১৩৩টি ত্রাণ শিবির, সরিয়ে নেয়া হয়েছে ১০ হাজারেরও বেশি স্থানীয়কে।
আরও পড়ুন:
এছাড়া তীব্র বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে গুজরাটের কয়েকটি জেলায় রেড অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে দিল্লি, হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, ওড়িশায়। দিল্লিতে হলুদ সতর্কতা জারির পর আকস্মিক বন্যা সতর্কতা জারি হয়েছে আসমসহ কেরালা, তামিলনাড়ু, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে। নিচু ও বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এছাড়া ঝাড়খণ্ডে তীব্র বর্ষণ ও বজ্রপাতে খোলা মাঠে কাজ করার সময় বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ভারতের যখন প্রবল বৃষ্টি আর বন্যার তাণ্ডব তখন ক্যাটাগরি ওয়ানের শক্তিসম্পন্ন টাইফুন ডলফিন আঘাত হানতে যাচ্ছে চীনে। ধারণা করা হচ্ছে, সোমবারে পূর্বাঞ্চলীয় চেচিয়াং প্রদেশে আঘাত হানতে পারে ডলফিন।
টাইফুনের সরাসরি প্রভাব পড়বে জাপানেও। এখনই সতর্ক অবস্থানে দেড় শতাধিক ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রিফেকচার ওকিনাওয়ার প্রশাসন। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে দোকানপাট। বাতিল হয়েছে বেশ কিছু ফ্লাইট। ধীরগতির এই টাইফুনের প্রভাবে জাপানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে এরইমধ্যে তীব্র বাতাস, ভারি বর্ষণ এবং সাগরে উত্তাল ঢেউয়ের সৃষ্টি হয়েছে।




