Recent event

রেজা পাহলভির ডাকে রাস্তায় প্রবাসী ইরানিরা, বাড়ছে আঞ্চলিক আস্থা

সরকারবিরোধী নেতা রেজা পাহলভি
সরকারবিরোধী নেতা রেজা পাহলভি | ছবি: এখন টিভি
0

ইরানে ক্রমেই গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির। তার ডাকে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে রাস্তায় নামে বিভিন্ন দেশে বসবাসরত লাখো প্রবাসী ইরানি। ইরানের আজেরি জনগোষ্ঠীসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর আস্থাও বাড়ছে তার ওপর। এমন অবস্থায় বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

জাতীয়তাবাদী ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, ইরানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা ও নাগরিক অধিকার আদায়ে নিবেদিতপ্রাণ একটি সংগঠন আজারবাইজান মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি অ্যান্ড ইন্টিগ্রিটি অব ইরান। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বসবাসকারী আজেরি জনগোষ্ঠী শিক্ষা ও রাজনৈতিক অধিকারের দাবিতে আজও সোচ্চার।

ইরানের সাম্প্রতিক সরকারবিরোধী আন্দোলনে বিক্ষোভকারীদের পক্ষে তারাও মাঠে নেমেছে। ইরানে শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনে খামেনি প্রশাসনকে হটাতে জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আজেরি জনগোষ্ঠী সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা লোহরাসব সাসানিফার। নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভির ওপর পূর্ণ আস্থা তার।

আজারবাইজান মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির মহাসচিব লোহরাসব সাসানিফার বলেন, ‘যুবরাজ রেজা পাহলভি একজন খুব ভালো এবং মিষ্টি স্বভাবের মানুষ। তাকে আমি ২০ বছর ধরে চিনি। তার সঙ্গে খুব কম দেখা হলেও তার কাজের সাথে পরিচিত বহু বছর ধরে। পাহভির সঙ্গে এর আগেও কাজ করার সুযোগ হয়েছে। এখনও তার পাশে আছি আমরা। তিনি আমাদের প্রকৃত নেতা ও অনুসারী।’

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামিক প্রজাতন্ত্র সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে সাসানিফার ২০০৬ সালে সপরিবারে জার্মানিতে পালিয়ে আসতে বাধ্য হন। তার জীবনের বেশিরভাগ সময় কেটেছে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে। তিনি রেজা পাহলভিকে নিজেদের নেতা এবং সৈনিক মনে করেন। তার মতে, পাহলভি নির্বাসিত হলেও, তার পরিচিতি বিশ্বজুড়ে এবং তার রাজনৈতিক মতাদর্শ অনুসরণ করে ইরানের তরুণ প্রজন্ম।

আজারবাইজান মুভমেন্ট ফর ডেমোক্রেসির মহাসচিব লোহরাসব সাসানিফার বলেন, ‘ইরানের বেশিরভাগ মানুষ বিশেষ করে তরুণরা, রেজা পাহলভিকে চেনে বিগত ৪৭ বছরে তার লড়াই সংগ্রামের জন্য। পশ্চিমাদের কাছেও তিনি পরিচিত মুখ। মানুষ তাকে খুব ভালো করে চেনে এবং জানে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, ইসরাইল সবাই তার চিন্তাভাবনা সম্পর্কে জানে। সে একজন গণতান্ত্রিক মানুষ। তার রাজনৈতিক মতাদর্শ তরুণরা অনুসরণ করে।’

আরও পড়ুন:

এদিকে, রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রেজা পাহলভি বলেন, ইরানি শাসনব্যবস্থা পতনের দ্বারপ্রান্তে। খামেনির রাজনৈতিক নেতৃত্বের অবসান এখন কেবল সময়ের ব্যাপার।

ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি বলেন, ‘ইরানের জনগণের বিদ্রোহের মুখে বর্তমান ক্ষমতাসীন শাসনব্যবস্থা সর্বকালের সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে পৌঁছেছে। এটি পতনের দ্বারপ্রান্তে। এই শাসনব্যবস্থার পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। এখন পশ্চিমা বিশ্ব হস্তক্ষেপ করুক বা না করুক, লড়াই অব্যাহত থাকবে এবং শাসনব্যবস্থার পতন হবেই।’

তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের চলমান উত্তেজনায় একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে বিশ্ব ব্যবস্থা। এমন অবস্থায় বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা অথবা মার্কিন একতরফা নেতৃত্ব দুটির যেকোনো একটি পথ বেছে নিতে হবে।

তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য অধ্যয়নের অধ্যাপক হামজেহ সাফাভি বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব ব্যবস্থার অনেককিছু উল্টে দিয়েছে। এখন কথা হলো, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা এখন একটি বিকল্পের মুখোমুখি। হয় আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলা রক্ষার জন্য তাদের অবশ্যই একটি গুরুতর প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। অথবা হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তাহীনতার ধরণ মেনে নিতে হবে। এতে অস্থিতিশীলতা এবং বিশৃঙ্খলা কেবল ইরানে নয় বিস্তৃত হবে গোটা বিশ্বে।’

দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারিতে অস্থিরতায় পড়েছে গোটা বিশ্ব। পরমাণু ইস্যুতে কোনো পক্ষই একবিন্দু ছাড় দিতে নারাজ। যুক্তরাষ্ট্র যতই হামলার হুমকি দিচ্ছে, ইরানও কড়া জবাব দেয়ার হুঁশিয়ারি জানিয়ে আসছে।

এএম