দুইদিন ধরেই উত্তাল ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভা অধিবেশন। গতকাল (বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে দফায় দফায় উত্তেজনা ছড়ায় সরকারি ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে। চীনের সঙ্গে ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি এবং গান্ধী পরিবার নিয়ে বিজেপি নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে হট্টগোল শুরু হয় সংসদে। বিরোধীদের প্রতিবাদের মুখে বাতিল হয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণও। পরিস্থিতি সামাল দিতে একাধিকবার মুলতবি করা হয় অধিবেশন।
একই চিত্র দেখা গেছে আজ (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে অধিবেশন শুরু হলে আবারও কংগ্রেসের সদস্যদের বিতর্কের মুখে দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় মুলতবি করা হয় অধিবেশন। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের জেরে সংসদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া বিরোধী জোটের ৮ সংসদ সদস্য বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে গিয়ে ভারতীয় স্বার্থ বিক্রির অভিযোগ তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খারগে। ভাষণে প্রধানমন্ত্রী মোদির সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এই চুক্তি কৃষক-বান্ধব নয়, মোদি ট্রাম্পের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।’
আরও পড়ুন:
চীন ইস্যুতে বিজেপি কার্যকর পদক্ষেপ নিতে ভয় পেয়েছে বলে অভিযোগ করেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। যা ঘিরে ক্ষমতাসীন ও বিরোধীদের মধ্যে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক। এ সময় তাদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ও হয়। এমনকি সংসদে ইন্ডিয়া জোটের কাউকে কথা বলার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠে।
কংগ্রেস নেতাদের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র কিসের বিনিময়ে শুল্কহার ৫০ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করেছে এ ব্যাপারে কিছুই স্পষ্ট করেনি মোদি সরকার। ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য চুক্তিতে কার স্বার্থ জড়িত তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। এর আগে কংগ্রেসের আইনপ্রণেতা শশী থারুর অভিযোগ করেন, রাশিয়ার কাছ তেল কেনার বিষয়টি নিয়ে লুকোচুরি করছে বিজেপি সরকার।
এদিকে, রাশিয়া থেকে ভারত তেল কিনবে না, ট্রাম্পের এমন দাবির দুইদিন পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে মস্কো। ক্রেমলিন বলছে, ভারত বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে তেল কিনতে পারে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাশিয়ার তেল আমদানির ক্ষেত্রে ভারত তার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাবে না।
বুধবার সংসদের প্রশ্নত্তোর পর্বে মার্কিন বাণিজ্যের খুঁটিনাটি তুলে ধরেন ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গোয়েল। হট্টগোলের মধ্যেই তিনি আলোচনা চালিয়ে যান। এ সময় তিনি জানান, এই চুক্তিতে ভারতীয় কৃষক ও দুগ্ধজাত পণ্যের ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।





