অভিযোগ যেনো নিত্যসঙ্গী মিয়ানমারের বর্তমান জান্তা সরকারের কাছে। সম্প্রতি একটি বিতর্কিত ও একপেশে নির্বাচনের আয়োজন করে ক্ষমতার মসনদ পাকাপোক্ত করে জান্তা–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি-ইউএসডিপি।
নির্বাচনের সময় সামরিক শাসকদের বিরুদ্ধে ৪ শর বেশি বিমান হামলা চালিয়ে ১৭০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যার অভিযোগ তুলেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা। যা নিয়ে নতুন করে সমালোচনার তুঙ্গে মিয়ানমারের মিং অং হ্লাইং প্রশাসন। তবে অভিযোগের ফিরিস্তি এখানেই শেষ নয়।
২০২১ সালে মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচির হত্যার পর রাস্তায় নামে দেশটির তরুণ প্রজন্ম। সেসময় তাদেরকে দমাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় জান্তা সরকার। সম্ভাবনাময় তরুণদের বন্দি করে রাখা হয় কারাগারের চার দেয়ালের মাঝে।
অনেকে কারা কর্তৃপক্ষের অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে মৃত্যুর প্রহর গুনছেন। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানের পর কারাগারে আটক থাকা ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে কমপক্ষে ৭৪ জন মারা গেছেন। সম্প্রতি প্রাণ হারানো ২ জনের পরিবারের সাক্ষাৎকার নিয়েছে রয়টার্স।
আরও পড়ুন :
এতে উঠে আসে তাদের ওপর হওয়া ভয়ঙ্কর নির্যাতনের তথ্য। নিহতদের একজন উট ইয়ে অং। বিদ্রোহের অভিযোগে জান্তা আদালত তাকে দোষী সাব্যস্ত করার পর ইয়াঙ্গুনের ইনসেইন কারাগারে বন্দি ছিলেন তিনি। পরিবারের কাছে লেখা চিঠিতে খাবার ও ওষুধের জন্য টাকা চান তিনি। জানান, কীভাবে না খাইয়ে মৃত্যুর মুখে ঠেলে পাঠানো হচ্ছে তাকে। সবশেষ ২০২৫ সালে ২৫ বছর বয়সে কারাগারেই মারা যান উট ইয়ে অং।
এছাড়া, নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারানোদের আরেকজন খান্ট লিন নাইং। তাকে আটকের খবর টেলিভিশন সংবাদের মাধ্যমে জেনেছিলো তার পরিবার। নাইং মারা গেলে কারাগার যুক্তি দেয় স্থানান্তর সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর গুলি চালানো হয়। যদিও কারা কর্তৃপক্ষের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে তার পরিবার। এমনকি মৃত্যুর পর নাইংয়ের মরদেহ দেখার অনুমতি দেয়া হয়নি।
মিয়ামারের তরুণদের ওপর হওয়া নির্যাতনের বিষয়ে শুরু থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছে জাতিসংঘসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠন। ২০২৫ সালে জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভ্যুত্থানের পর থেকে মিয়ানমারের অন্তত ৩ থেকে ৫ লাখ তরুণ-তরুণী দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন।





