মিয়ানমারের জান্তা সরকার আয়োজিত তিন ধাপের সাধারণ নির্বাচন শুরু থেকেই ছিলো প্রশ্নবিদ্ধ। এটিকে পাতানো ও প্রহসনের নির্বাচন বলেও আখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। ইতোমধ্যে সত্যি হয়েছে সেই শঙ্কাও। ভূমিধস জয় পেয়েছে জান্তা–সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি-ইউএসডিপি। কিন্তু স্বীকৃতি দেয়নি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১১ দেশের জোট আসিয়ান।
গৃহযুদ্ধের মধ্যে ২৮ ডিসেম্বর, ১১ জানুয়ারি ও ২৫ জানুয়ারি তিন ধাপে শেষ হওয়া বিতর্কিত নির্বাচনটি ছিলো.২০২১ সালে গণতান্ত্রিক নেত্রী অং সান সু চিকে ক্ষমতাচ্যুত করার পাঁচ বছর পর প্রথম সাধারণ নির্বাচন। প্রহসনের নির্বাচন চলাকালেও ভয়াবহরকম হত্যাকাণ্ড চলেছে বলে জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠেছে। বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে এমনই এক চাঞ্চল্যকর তথ্য তুলে ধরেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার সংস্থা।
জাতিসংঘের দেয়া তথ্য বলছে, ভোটগ্রহণ চলাকালে মিয়ানমারের বিভিন্ন অঞ্চলে ৪০৮টি বিমান হামলা চালিয়েছে সামরিক বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন ১৭০ বেসামরিক নাগরিক। নিরাপত্তাজনিত সীমাবদ্ধতা এবং তথ্য সংগ্রহের জটিলতার কারণে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদনে।
আরও পড়ুন:
ভোট চলাকালেও মানুষের রক্ত ঝড়ানোয় অভ্যুত্থানের পাঁচ বছর পর জান্তা-সরকার মিয়ানমার সংকট আরও গভীর করে তুলেছে বলেও মনে করছে জাতিসংঘ। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘনের ফলে মিয়ানমারের জনগণ এখনও কষ্ট পাচ্ছে বলেও মনে করা হচ্ছে। যার কারণে সামনে হামলা ও খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার ঝুঁকি আরও বাড়ার শঙ্কা করা হচ্ছে।
জান্তাবিরোধীদের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশটির বিশাল অংশে ভোটগ্রহণ হয়নি। অর্থাৎ ৩৩০টি শহরের মধ্যে মাত্র ২৬৩টিতে ভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিরোধীদের মধ্যে আছে রোহিঙ্গা ও সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। সেসব এলাকায় সামরিক অভিযান, হামলা ও সংঘর্ষ থামারও কোনো আভাস নেই।
এ অবস্থায় মিয়ানমারবাসীর অর্থনৈতিক দুর্দশা, দুর্ভোগের ক্ষত আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এমনকি বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা ছাড়াতে পারে ৫২ লাখ। জাতিসংঘের হিসেব অনুযায়ী, মিয়ানমারের গৃহযুদ্ধে বাস্তুচ্যুত হওয়ার সংখ্যা প্রায় ৩৬ লাখ।





