আজ (রোববার, ২৫ অক্টোবর) তেহরানে সম্প্রচারিত এক অনুষ্ঠানে আরাঘচি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল এর আগেও দুবার ইরানে বড় ধরনের আক্রমণ চালিয়েছে, কিন্তু তাতে কোনো পক্ষই নতুন কিছু অর্জন করতে পারেনি। ফলে আবার আগ্রাসন চালালেও ভিন্ন কোনো ফল আসবে না। চলমান সংঘাতকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতি ও নিরাপত্তার অন্যতম বড় সন্ধিক্ষণ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি জানান, যুদ্ধের পর পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে গেছে। এই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান চাইলে সব ফ্রন্টেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে হবে।
বিশ্বের অন্যতম প্রধান জ্বালানি সরবরাহ পথ হরমুজ প্রণালির বিষয়ে অনড় অবস্থান তুলে ধরে আরাঘচি জানান, কৌশলগত এই জলপথ আর কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না। যুদ্ধের শুরু থেকেই জলপথটির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান এবং তাদের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করছে। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালে ইরানি বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের ৮০টির বেশি সামরিক উড়োজাহাজ ও ফাইটার জেট ধ্বংস করেছে বলে দাবি করেন তিনি। তিনি জানান, এগুলোর প্রায় সবই ঘাঁটিতে থাকা অবস্থায় ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস করা হয়। মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি তুলে ওই অঞ্চল থেকে সব বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে কাল রোববারের মধ্যেই ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে অথবা তেহরানের সঙ্গে একটি বড় চুক্তি হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের সামরিক তৎপরতার ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে এবং ২৫৯টি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়ে দেশটিকে চরম অর্থনৈতিক সংকটে ফেলা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া পাল্টাপাল্টি সংঘাতের পর এপ্রিলে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও নৌ অবরোধ নিয়ে দুই দেশের উত্তেজনা বজায় রয়েছে।
এদিকে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে পাকিস্তান মারফত ওয়াশিংটনকে নতুন কোনো প্রস্তাব দেয়ার খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানায়, সৌদি আরবের একটি গণমাধ্যমে এই বিষয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি মনগড়া ও ভিত্তিহীন। ওয়াশিংটনের সঙ্গে এমন কোনো আপসরফার প্রস্তাব তেহরান দেয়নি বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।





