ইরানে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, লক্ষ্য হতে পারে পরমাণু ও জ্বালানি স্থাপনা

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরিতে অবতরণ করছে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন বিমানবাহী রণতরিতে অবতরণ করছে এফ/এ-১৮ সুপার হর্নেট | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান ও বিমান হামলা শুরুর জন্য মার্কিন বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন। বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের এক প্রতিবেদনে কর্মকর্তাদের বরাতে জানানো হয়েছে, কয়েক দিন আগেই এই নির্দেশ জারি করা হয়।টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি এবং সম্ভাব্য সামরিক অভিযানের কোনো নির্দিষ্ট তারিখও নির্ধারণ করা হয়নি। তবে চলতি মাসের শেষে অনুষ্ঠেয় ইসরাইলের নির্বাচনের আগেই এই হামলা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নতুন করে হামলা শুরু হলে ইরানের পরমাণু স্থাপনা, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি অবকাঠামো এবং কৌশলগত জ্বালানি কেন্দ্রগুলোকে মূল নিশানা করা হতে পারে।

হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এবং ইরানের ভেঙে পড়া অর্থনীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্র এখন অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। ইরান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন দুটি পথের যেকোনো একটিতে যাবে—সহজ পথ অথবা কঠিন পথ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হাতেই সব নিয়ন্ত্রণ এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য যা সবচেয়ে ভালো, তা-ই করবেন।’

সম্ভাব্য এই সামরিক অভিযানে ইসরাইলি বাহিনীও যুক্ত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুই ইসরাইলি কর্মকর্তার দাবি, ইরান বর্তমানে চরম চাপে রয়েছে এবং নিজেদের বাঁচাতে তারা হয়তো আগেই প্রথম আঘাত হানার চেষ্টা করতে পারে। গত মাসেও এক ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানে নতুন দফা হামলা চালানো কেবল সময়ের ব্যাপার।

এদিকে মার্কিন সাময়িকী দ্য আটলান্টিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে পুনরায় হামলা চালানোর পরিকল্পনা তৈরি করতে পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছিল হোয়াইট হাউস। এর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম কমানোর বিষয়ে ট্রাম্প যে কতটা কঠোর, সেই বার্তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হচ্ছে।

সম্প্রতি উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, তেহরানের কাছে ভূগর্ভস্থ মিনজাদেহেই পরমাণু স্থাপনায় বড় ধরনের তৎপরতা শুরু করেছে ইরান। যুদ্ধ চলাকালে এই স্থাপনায় হামলা চালিয়েছিল ইসরাইলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। ইসরাইলের দাবি, ২০২৫ সালের জুনে যুদ্ধের পর ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির বড় অংশ এই ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে সরিয়ে নিয়েছিল।

ইরানের পরমাণু ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ধ্বংসের লক্ষ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন ঘাঁটি এবং ইসরাইলে পাল্টা হামলা চালায় তেহরান এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করে দেয়। এপ্রিল মাসে এক ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে সরাসরি সংঘর্ষ থামলেও কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শান্তি আলোচনা বর্তমানে স্থবির হয়ে রয়েছে। পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি গুটিয়ে নেয়া এবং হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করার মার্কিন দাবি মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে তেহরান।

এএম