সৌদি আরবের জোরালো বিমান সহায়তায় সরকারি বাহিনী সোমবার মোখা শহরের উপকণ্ঠে পৌঁছালে হুথি যোদ্ধারা পাহাড়ি এলাকার দিকে পিছু হটতে বাধ্য হয়। বাব-এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত হলে লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি তেল পরিবহন রুটে হুথিদের আধিপত্য অনেকটাই খর্ব হবে। এর আগে প্রণালির প্রবেশমুখে অবস্থিত ধুবাব জেলার একটি বিমানঘাঁটিও পুনর্দখল করে সরকারি বাহিনী। তবে হুথিরা সরকারের এই অগ্রযাত্রার দাবিকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
পাল্টা জবাবে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে হুথিরা। তাদের দাবি অনুযায়ী, রিয়াদের বাদশাহ খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, রাবিগে অ্যারামকো তেল শোধনাগার, আবহা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং খামিস মুশাইত সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
উপকূলীয় এলাকায় পিছু হটলেও দেশটির তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজের আশপাশের পাহাড়ি এলাকায় অগ্রগতি অর্জন করেছে হুথিরা। তারা তাইজ-এডেন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি অংশ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে শহরটি অবরুদ্ধ করে রেখেছে। ফলে সেখানে জ্বালানি ও রান্নার গ্যাসের চরম সংকট দেখা দিয়েছে।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে জরুরি বৈঠক করেছে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান। দেশ তিনটি তাদের মধ্যকার মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় সৌদি আরবে দ্রুত সামরিক বাহিনী ও সক্ষমতা মোতায়েনে সম্মত হয়েছে। এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো মক্কা ও মেদিনাসহ সৌদি আরবের বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনায় হুথিদের হামলার চেষ্টার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।
জাতিসংঘের অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নতুন করে লড়াই শুরু হওয়ার পর থেকে ইয়েমেনে অন্তত ১ লাখ ৮৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। দেশটির প্রেসিডেন্ট রাশাদ আল-আলমি ঘোষণা দিয়েছেন, সন্ত্রাসীদের দখলমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এ লড়াই অব্যাহত থাকবে।





