গভর্নরের এই ঘোষণার মূল উদ্দেশ্য হলো টিকাদান কর্মসূচি ত্বরান্বিত করা। এর মাধ্যমে প্যারামেডিক, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের অতি দ্রুত ‘মিজেলস, মাম্পস অ্যান্ড রুবেলা (এমএমআর)’ ভ্যাকসিন প্রয়োগ এবং পরীক্ষা পরিচালনার আইনি অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
নিউ ইয়র্ক রাজ্যের গভর্নর ক্যাথি বলেন, ‘টিকা দিয়ে প্রতিরোধযোগ্য কোনো রোগে কেউ মারাত্মক অসুস্থ হবে কিংবা মারা যাবে, এমনটা মোটেই হওয়া উচিত না।’
যুক্তরাষ্ট্র ২০০০ সালের মধ্যেই হাম প্রায় পুরোপুরি নির্মূল করতে সক্ষম হয়েছিল। কিন্তু টিকাদানের হার হ্রাস পাওয়ায় সম্প্রতি দেশটিতে আবার হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। চলতি বছর ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নিউ ইয়র্ক রাজ্যে ১০৮ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে ১০১ জনই নিউইয়র্ক সিটির বাইরের গ্রামাঞ্চলে ও কম টিকাপ্রাপ্ত এলাকার।
আরও পড়ুন:
নিউ ইয়র্কের কাছের আরেক রাজ্য পেনসিলভানিয়ায় হামের সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। রাজ্যের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা গত সোমবার জানিয়েছেন, চলতি বছর সেখানে হামে আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে এবারই রাজ্যটিতে সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছে। রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৩ হাজার ৯০০ জন হামে আক্রান্ত হয়েছে। দেশটি ১৯৯১ সালের পর হামের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি পার করছে। গত দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রে হামজনিত ৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে, যা আগের তিন দশকের মোট মৃত্যুর সংখ্যার চেয়েও বেশি। গত বছরের শুরু থেকে টেক্সাস ও ইউটাহ সহ বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব রেকর্ড করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা এই রোগের প্রাদুর্ভাব বা পুনরুত্থানের পেছনে টিকাদানের হার ৯৫ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়াকে দায়ী করছেন। সমালোচকদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে টিকাবিরোধী ‘অ্যান্টি ভ্যাকসিনেশন’ প্রচারণা বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। বিশেষ করে ট্রাম্প সরকারের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক মন্ত্রী রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়রসহ অনেক শীর্ষ কর্মকর্তা এই প্রচারণায় জোর সমর্থন জানিয়ে আসছেন।




