শিক্ষাখাতের বাজেট সংকোচনের প্রতিবাদে উত্তাল ফ্রান্স

উত্তাল ফ্রান্স
উত্তাল ফ্রান্স | ছবি: সংগৃহীত
0

ফ্রান্সের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সংকট নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে দেশটির শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে বড় বড় শ্রমিক ইউনিয়নগুলোও। এছাড়া দেশব্যাপী কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন আয়োজকরা। শিক্ষাখাতের বাজেট সংকোচনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আরও বড় সহিংস বিক্ষোভের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু। তবুও প্যারিসের শহরতলি থেকে শুরু হওয়া এ আন্দোলন বর্তমানে ফরাসি সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় সংকটে রূপ নিয়েছে।

শিক্ষাব্যবস্থার বেহাল দশা, শিক্ষক সংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীপূর্ণ শ্রেণিকক্ষ এবং সরকারি বাজেট ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বিক্ষোভ ও আন্দোলনে মুখর প্যারিসের শহরতলি থেকে শুরু করে বড় শহরগুলো।

জনসেবামূলক খাতে সরকারি বাজেট হ্রাসের প্রতিবাদে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে প্রথম এ আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। সেখানে তীব্র বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে শত শত স্কুল সম্পূর্ণ বা আংশিক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা শত শত স্কুল অবরোধ করে রাখে। অন্তত দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

বেশ কিছু স্কুল ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটেছে। দাঙ্গা পুলিশের সাথে সংঘর্ষের জেরে এ পর্যন্ত কয়েক হাজার বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং বহু শিক্ষার্থী ও পুলিশ আহত হয়েছেন। যাদের বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক।

এছাড়া গেল সোমবার বিক্ষোভে সংঘর্ষের সময় এক ছাত্রের হাত উড়ে যাওয়ার খবর মিলেছে। আঞ্চলিক সংবাদপত্রগুলোর তথ্যমতে, রেন শহরের সংঘর্ষের সময় পুলিশের ছোড়া গ্রেনেড তুলতে গিয়ে এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের হাত উড়ে যায়। গুরুতর আহত এই কিশোর বর্তমানে চিকিৎসাধীন।

এর মধ্যেই ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্টিয়ান লেকোর্নু জানিয়েছেন,সরকার শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণের ঘোষণা দিয়েছেন। ফরাসি শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে শিক্ষার্থীদের ক্ষয়ক্ষতি ও ভাঙচুর করা থেকে বিরত থাকার অনুরোধ জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের ক্ষতির মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন। যদি ছোটখাটো ভাঙচুরের কথা বলি সেগুলো গুরুতর নয়। কিন্তু বড় ধরনের ক্ষতি বেশি ঝামেলাপূর্ণ। তবে ছোটখাটো ভাঙচুরই বড় ধরনের ক্ষতির পথ খুলে দেয়। যদি একটি ময়লার ঝুড়ি জ্বলতে থাকে, তখন আমরা একটু বেশিই উত্তেজিত হয়ে যাই। আর তারপরই শুরু হয়, এখন গেটটা কেন নয়, তারপর বিল্ডিংটাই বা কেন নয়। আর এভাবেই চলতে থাকে।’

কিন্তু বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান সংগঠক ইউনিয়ন সিন্ডিকাল লিসেনের দাবি, সরকার সুনির্দিষ্ট কোনো প্রস্তাব দেয়নি। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে রাজনৈতিক অচলাবস্থা এবং নজিরবিহীন দমনপীড়ন হিসেবে আখ্যা দেন। সংগঠনটি জনগণকে তাদের কর্মসূচিতে যোগ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যান্য বড় বড় ফরাসি সংগঠনও শিক্ষার্থীদের পসমর্থন করছে। কট্টর-বামপন্থী এলএফআই দল এ বিক্ষোভকে ১৯৬৮ সালের পর থেকে "সবচেয়ে শক্তিশালী উচ্চ বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র যুব আন্দোলন" আখ্যা দিয়েছে। সে বছর লাখ লাখ শ্রমিক ধর্মঘটে অংশ নিলে বিপাকে পড়ে তৎকালীন ফরাসি সরকার।

প্যারিসের পাশাপাশি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইতেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। নঁত, মঁপেলিয়ে, রেন, বেলফোরেও শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছে। এসব শহরেও সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বর্তমানে এসব শহরে দাঙ্গা মোকাবিলায় প্রশিক্ষিত পুলিশের বিশেষ ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে।

এফএস