জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে ট্রাম্পের হুমকি নতুন কিছু নয়। ২০১৭ সালে সাধারণ পরিষদে তার প্রথম ভাষণে উত্তর কোরিয়াকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প। এবার ইরানকে নিশ্চিহ্ন করার হুমকি দিলেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় ৪০ মিনিটের ভাষণে কূটনীতি বা বহুপক্ষীয় সমঝোতার বদলে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী নেতা হিসেবে ট্রাম্প নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। যা করতে গিয়ে বেশকিছু বিষয়ে নানা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবিও করেছেন তিনি।
ট্রাম্পের ৮টি যুদ্ধ অবসানের দাবি
১. কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড
২. কসোভো-সার্বিয়া
৩. রুয়ান্ডা-কঙ্গো
৪. ভারত-পাকিস্তান
৫. আর্মেনিয়া-আজারবাইজান
৬. গাজা-ইসরাইল
৭. ইরান-ইসরাইল
৮. মিশর-ইথিওপিয়া
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প তার বহুল প্রচলিত একটি মিথ্যা দাবির পুনরাবৃত্তি করে বলেন, দ্বিতীয় মেয়াদের ক্ষমতায় এসে এখন পর্যন্ত আটটি যুদ্ধ বন্ধ করা বিরাট সম্মানের বিষয়। ট্রাম্পের এই দাবি সুস্পষ্ট অতিরঞ্জিত। কারণ মিশর ও ইথিওপিয়া এবং সার্বিয়া ও কসোভোর মধ্যে কূটনৈতিক বিরোধ ছাড়া আদতে কোনো যুদ্ধ ছিল না। গাজা যুদ্ধে এখনো সমাধান মেলেনি। অনেক দেশের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে মধ্যস্থতা করলেও, চলতি বছরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ট্রাম্পই শুরু করেছেন।
ভেনেজুয়েলার জনগণের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে আনার বিষয়ে নিজের যুক্তি তুলে ধরেন ট্রাম্প। সাধারণ পরিষদের ভাষণে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলা হাতে বিশ্বের ৬০ শতাংশেরও বেশি তেল মজুত রয়েছে।
তবে আগস্টে হওয়া একটি চুক্তি অনুযায়ী ভেনেজুয়েলার ১৭টি তেলক্ষেত্রে মজুত ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের ওপর নিয়ন্ত্রণ থাকবে যুক্তরাষ্ট্রের। যদিও ভেনেজুয়েলায় মজুত তেলের পরিমাণ ৩০৩ বিলিয়ন ব্যারেল।
যুক্তরাষ্ট্রে দেশি-বিদেশি কোম্পানির বিনিয়োগ নিয়েও মিথ্যাচার করেছেন ট্রাম্প। সারা বিশ্ব থেকে ২১ ট্রিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করার দাবি করেছেন তিনি। অথচ তার ভাষণ চলাকালে হোয়াইট হাউজের নিজস্ব ওয়েবসাইটের তথ্য বলছে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে মোট বিনিয়োগ ১১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার।
সম্প্রতি মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও কংগ্রেসনাল বাজেট অফিসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টরের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এই মজুত পুনর্গঠন করতে সময় লাগবে অন্তত পাঁচ বছর।
আরও পড়ুন:
তবে যুদ্ধাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে আসার তথ্য মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়ে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে এত পরিমাণে অস্ত্র রয়েছে যা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন নিয়েও উপহাস করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের দাবি, বিশ্ব উষ্ণ না হয়ে বরং শীতল হয়েছে এবং কেউ মারা যায়নি। জাতিসংঘের বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য মতে, গেল তিন বছর ছিল সবচেয়ে উষ্ণতম বছর। যার তথ্য নাসাও দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে, ২০৩০ থেকে ২০৫০ সালের মধ্যে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রতি বছর আড়াই লাখ অতিরিক্ত মানুষের মৃত্যুর হতে পারে।
দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর যুক্তরাষ্ট্রের বেসরকারি খাতে ১০ লাখের বেশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরির দাবি করলেও প্রকৃত সংখ্যা ৮ লাখ ৭ হাজার। যা ঐতিহাসিক মানদণ্ডে, খুব বড় ঘটনা নয়।
এছাড়া ওয়াশিংটন ডিসিতে অপরাধ ৮৭ শতাংশ কমে যাওয়ার বিষয় নিয়ে অতিরঞ্জিত তথ্য দিয়েছেন ট্রাম্প। স্থানীয় পুলিশ বিভাগের তথ্য মতে, ২০২৫ সালে এই শহরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমেছে মাত্র ১৫ শতাংশ।



