আজ (রোববার, ১৮ অক্টোবর) দেয়া ওই পোস্টে ইশরাক লেখেন, কিছু নামকরা গণমাধ্যমের আইনজীবী প্যানেল দিয়ে আইনের ধারা ব্যাখ্যা করানোর সক্ষমতা রয়েছে। তার বিশ্বাস, তারা এ চর্চা করেও। সবকিছু জেনেও সংবাদ পরিবেশনের ধরন দেখে মনে হচ্ছে, ঘুণ্টিঘরের মাদক ব্যবসার সঙ্গে এসব গণমাধ্যমের সংশ্লিষ্টতা ছিলো। এ কারণে তার অভিযানের পর তারা ‘বন্য পশুর মতো আচরণ’ করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইশরাক আরও লেখেন, সব মাদকের আখড়া (যারা হয়তো এই পেপারগুলাকে অর্থায়ন করে) ওগুলা মাটির সঙ্গে মেশানো হবে। নিজের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য তার বৈধ লাইসেন্স করা আগ্নেয়াস্ত্র ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখন থেকে এসব আস্তানা বাঁশের লাঠি দিয়ে ধ্বংস করবেন। পুলিশ দাঁড়িয়ে দেখবে এবং ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন তিনি। শেষে লেখেন, ‘মাদকবিরোধী সংগ্রামের ১৬ কলা পূর্ণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।’
এর আগে শনিবার (১৭ অক্টোবর) রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন ইশরাক। তার ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে এক হাতে হ্যান্ড মাইকের মাউথপিস ও অন্য হাতে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কয়েকজনকে ধাওয়া করতে দেখা যায় তাকে। এ সময় তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনের হাতেও অস্ত্র দেখা যায়।
অভিযান শেষে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহে ছয়জনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ইশরাকের দাবি, সেখানে মাদক কেনাবেচার অস্থায়ী আস্তানা ছিল। তার দেয়া ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অভিযানে মাদক ও অন্যান্য সামগ্রী উদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকটি অবৈধ আস্তানা উচ্ছেদ করা হয়।
আরও পড়ুন:
রোববার দেয়া এক বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী দাবি করেন, অভিযানের আগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সূত্র থেকে হামলার আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছিল। ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি মারমুখী ভঙ্গিতে গাড়িবহরের দিকে এগিয়ে এলে আত্মরক্ষার জন্য তিনি ও তার নিরাপত্তারক্ষীরা অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচিয়ে ধরেন। গণমাধ্যমের একাংশ অভিযানের অন্যান্য দিক উপেক্ষা করে অস্ত্র হাতে তার উপস্থিতিকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এদিকে, মাদকবিরোধী অভিযানে ইশরাক ও তার সহযোগীদের আগ্নেয়াস্ত্র হাতে অংশ নেয়ার ঘটনায় আইনের ব্যত্যয় হয়েছে কি না, তা তদন্ত করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
রোববার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটি পর্যালোচনার জন্য ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্তে আইনের ব্যত্যয় পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
গেন্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান মনির জানিয়েছেন, ইশরাক ছয়জনকে আটক করার পর পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে সাদা পাউডারজাতীয় পদার্থ পাওয়া গেছে, তবে সেগুলো হেরোইন কি না, পরীক্ষার মাধ্যমে তা নিশ্চিত হতে হবে।
ঢাকা-৬ আসনকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা পুনর্ব্যক্ত করে ইশরাক বলেছেন, মাদক কারবারে যে দলের লোকই জড়িত থাকুক, কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। নিজের দলের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও আগেই জানিয়েছিলেন তিনি।





