সৌদি–হুতিদের পাল্টাপাল্টি হামলা; প্রাণ বাঁচাতে সমুদ্রপথে পালাচ্ছেন হাজারো ইয়েমেনি

হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে পালিয়ে যাচ্ছেন মানুষেরা
হুতি ও সৌদি-সমর্থিত সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষে পালিয়ে যাচ্ছেন মানুষেরা | ছবি: সংগৃহীত
0

সৌদি আরব ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের মধ্যে সীমান্তজুড়ে নতুন করে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ড্রোন হামলা শুরু হয়েছে। তীব্র লড়াইয়ের মুখে হাজার হাজার ইয়েমেনি নাগরিক প্রাণ বাঁচাতে নৌকায় করে লোহিত সাগর পাড়ি দিয়ে আফ্রিকার দেশগুলোতে আশ্রয় নিচ্ছেন। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা আবারও মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হুতি-নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনের বরাতে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার সৌদি সীমান্তসংলগ্ন হাজ্জাহ প্রদেশ এবং মধ্যাঞ্চলীয় তায়েজ এলাকায় বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি বিমানবাহিনী। অন্যদিকে সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় তায়েফ শহরে একটি ড্রোন ভূপাতিত করার পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক ইয়েমেনি প্রবাসী নিহত হয়েছেন। সংঘাত বৃদ্ধির পর সৌদি আরবের অভ্যন্তরে এটিই প্রথম কারও মৃত্যুর ঘটনা। এর আগে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল রিয়াদ।

গত সপ্তাহ থেকে হুতিরা ইয়েমেনের সমগ্র লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। সংগঠনটি দাবি করেছে, তারা সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করেছে। বিধ্বস্ত বিমানের একটি ভিডিও ফুটেজও তারা প্রকাশ করেছে। টেলিভিশনে দেয়া এক ভাষণে হুতি নেতা আবদুল মালিক আল-হুতি বলেন, ‘আমরা চাই সৌদি আরব আমাদের ওপর আগ্রাসন এবং দেশের ওপর তাদের অবরোধ ও দখলদারত্ব বন্ধ করুক। এটিই আমাদের একমাত্র দাবি!’

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে ১ লাখেরও বেশি ইয়েমেনি নাগরিক বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। অনেকে ছোট নৌকায় করে বিপজ্জনক বাব এল-মান্দেব প্রণালি পাড়ি দিয়ে লোহিত সাগরের অপর প্রান্তে জিবুতিতে পৌঁছাচ্ছেন। ওয়াহিদা ওমের নামের ৫০ বছর বয়সী এক নারী জানান, হুতিরা তাদের গ্রামে ঢোকার পর তিনি কোনোমতে নৌকায় চড়ে পালিয়ে এসেছেন। তবে তার স্বামী বেঁচে আছেন নাকি বন্দি হয়েছেন, সে খবর তিনি জানেন না।

এদিকে ইয়েমেন ও সৌদি আরবে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০০ ডলারের ওপরে অবস্থান করছে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার পাশাপাশি এবার হুতিরা বাব এল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেয়ায় তেল পরিবহনের বিকল্প সমুদ্রপথও বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সৌদি আরবের প্রধান পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি হামলার শিকার হয়ে গত সপ্তাহ থেকেই বন্ধ রয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করে বলেছেন, যুদ্ধ হয়তো দ্রুতই শেষের দিকে যাবে এবং ইরান একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী।

এএম