ইরান যুদ্ধে মার্কিন ব্যয় ৩৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়ালো; মাসে যোগ হচ্ছে ৩০০ কোটি

ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের ফ্লাইট ডেকে দৌড়াচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্য
ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনের ফ্লাইট ডেকে দৌড়াচ্ছেন মার্কিন নৌবাহিনীর এক সদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলা সামরিক অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৮০০ কোটি ডলারে (৩৮ বিলিয়ন ডলার)। মার্কিন কংগ্রেসের অরাজনৈতিক আর্থিক গবেষণা সংস্থা কংগ্রেশনাল বাজেট অফিস (সিবিও) মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, এই যুদ্ধের পেছনে মার্কিন সরকারের প্রতি মাসে আরও অন্তত ৩০০ কোটি ডলার (৩ বিলিয়ন ডলার) করে অতিরিক্ত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের বাজেট কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ব্রেনডান বয়েলের অনুরোধে প্রস্তুত করা এই প্রতিবেদনে গত ১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিবিও-র পর্যালোচনায় বলা হয়, সংঘাতের প্রভাবে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ০.৫ শতাংশ বাড়তে পারে। মূলত যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত গতিতে ব্যবহৃত হওয়া আধুনিক ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্রের শূন্যতা মেটাতেই খরচের বড় অংশ চলে যাচ্ছে। খালি হওয়া অস্ত্রাগার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত পাঁচ বছর সময় লাগতে পারে।

তবে সিবিও অভিযোগ করেছে, তাদের এই আর্থিক নিরীক্ষা কার্যক্রমের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষা সদর দপ্তর পেন্টাগন কোনো নথিপত্র বা তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেনি।

সিবিও-র প্রতিবেদনের পর হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মার্কিন কর্মী ও জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্টের যেকোনো কৌশলগত লক্ষ্য পূরণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রযুক্তি মজুত রয়েছে।’ একইভাবে পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পার্নেল বলেন, পেন্টাগনের কাছে যেকোনো সময় নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর মতো সব সরঞ্জাম রয়েছে।

যুদ্ধের খরচের চিত্র সামনে এনে ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ব্রেনডান বয়েল বলেন, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই ক্ষতিকর যুদ্ধ ইতিমধ্যে আমাদের সাহসী সেনাসদস্যদের জীবন কেড়ে নিয়েছে এবং মার্কিন সাধারণ করদাতাদের বিপুল অর্থের ক্ষতি করছে।’ উল্লেখ্য, ইরান সংঘাতের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।

সিবিও জানায়, এই ৩৮ বিলিয়ন ডলারের খরচের মধ্যে সম্প্রতি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা কিংবা মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় হওয়া ক্ষয়ক্ষতির অর্থ অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এছাড়া যুদ্ধের অর্থসংস্থানের জন্য গৃহীত ঋণের সুদের খরচও এতে যুক্ত হয়নি, যা হিসাব করলে চূড়ান্ত ব্যয় আরও অনেক বৃদ্ধি পাবে।

গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের এমন ঘাটতি ভবিষ্যৎ ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সম্ভাব্য সংঘাত মোকাবিলায় পেন্টাগনের সার্বিক সামরিক প্রস্তুতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে বলে সিবিও সতর্ক করেছে। এর আগে জুলাই মাসে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটের এক শুনানিতে প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার খরচের কথা স্বীকার করে জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রাগার পুনরায় পূর্ণ করতে ৯ হাজার কোটি (৯০ বিলিয়ন) ডলারের নতুন বাজেট বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছিলেন।

বর্তমানে মার্কিন সরকারের মোট জাতীয় ঋণের পরিমাণ রেকর্ড ৪০ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। এর মধ্যে এই যুদ্ধের জেরে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারের নতুন ঋণের বোঝা দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ ফেলছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক দুই সামরিক অভিযান—ইরাক যুদ্ধে প্রায় ২ ট্রিলিয়ন ডলার এবং আফগানিস্তান যুদ্ধে ২.৩ ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছিল। সেগুলোর তুলনায় ইরান যুদ্ধে সেনাসংখ্যা কম হলেও কম সময়ে রেকর্ড পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে ওয়াশিংটনকে।

এএম