উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি গত সপ্তাহে সৌদি আরবের সমর্থনপুষ্ট সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সঙ্গে তারা সৌদি ভূখণ্ডেও হামলা চালায়, যাতে বহু লোক আহত হন। ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যে বৃহত্তর যুদ্ধ শুরু হয়েছিল, তার প্রভাবেই সংঘাতটি নতুন করে তীব্র রূপ নিল।
ইয়েমেনের একটি সামরিক সূত্র জানায়, মোখা দখলের পর হুথি যোদ্ধারা কৌশলগত বাব-এল-মান্দেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হচ্ছে। দক্ষিণ লোহিত সাগরের জুকার দ্বীপটিও রকেট হামলা ও নৌযানের সাহায্যে স্থল অভিযান চালিয়ে দখলে নিয়েছে তারা। এদিকে মোখার নিয়ন্ত্রণে থাকা ইয়েমেনের ন্যাশনাল রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের প্রধান তারেক সালেহ এক বিবৃতিতে জানান, নতুন করে সংগঠিত হতে তিনি তার কমান্ড সেন্টার নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন।
কয়েক বছরের আপেক্ষিক শান্ত পরিস্থিতির পর গত জুলাই থেকে ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত শুরু হয়। কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপির পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহ থেকে শুরু হওয়া লড়াইয়ে ৫০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন, যাদের বেশিরভাগই যোদ্ধা। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) জানিয়েছে, সংঘাতের মুখে অন্তত ২০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন।
হুথিদের অগ্রযাত্রার মুখে মোখা, আল-খাওখা ও হাইস এলাকা থেকে বহু মানুষ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কেন্দ্র এডেনে পালাচ্ছেন। অন্যদিকে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমানবাহিনী তাইজ, আল হুদায়দাহ, আল-জাউফ ও মারিব প্রদেশে দফায় দফায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে হুথিদের বার্তা সংস্থা সাবা।
উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, যার প্রভাব পড়েছে জ্বালানি তেলের বাজারে। আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের পর মার্কিন অপরিশোধিত তেল ডব্লিউটিআইয়ের দামও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে।





