চীনা আধিপত্য ঠেকাতে ড্রোনে ১০০% শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রের

আকাশে উড়ছে একটি ড্রোন
আকাশে উড়ছে একটি ড্রোন | ছবি: সংগৃহীত
0

ড্রোন এবং নির্দিষ্ট ড্রোন–উপাদানি আমদানির ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক বৃহস্পতিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত এ শুল্ক আরোপের লক্ষ্য হলো ড্রোন শিল্পে চীনা সরবরাহকারীদের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতা কমানো। এই খাতে বাজার নেতা চীনা প্রতিষ্ঠান ডিজেআইকে কেন্দ্র করেই যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি বলে কর্মকর্তাদের বক্তব্য। ইউরো নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগস্টে এ সংক্রান্ত এক আদেশে শুল্কহার নির্ধারণ করেন। সেখানে বলা হয়, ড্রোন ও এর উপাদানি আমদানি ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ তৈরি করছে। আদেশে দেশীয় সরবরাহশৃঙ্খলা জোরদার করার লক্ষ্যও উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশ অনুযায়ী, ২৫ কিলোগ্রামের বেশি উড্ডয়ন-ওজনের ড্রোন, তাপচিত্র ধারণক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন এবং ডকিং স্টেশনের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। তুলনামূলক ছোট ড্রোনে শুল্ক ২৫ শতাংশ।

ড্রোনের কিছু উপাদান, যেগুলোকে ‘বিশেষভাবে সংবেদনশীল নয়’ বলা হয়েছে, সেগুলোর ওপরও শুল্ক আরোপ করা হবে। তবে ওই অংশটি কার্যকর হবে আগামী বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে।

শুল্ক পরিকল্পনা প্রকাশের পরপরই চীন এর বিরোধিতা করে। চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, এ ধরনের শুল্ক ‘বিশ্ব ড্রোন সরবরাহশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করবে এবং ন্যায্য ও প্রতিযোগিতামূলক বাজার পরিবেশ আরও ক্ষুণ্ন করবে’। তিনি জানান, চীন এ পদক্ষেপের তীব্র বিরোধিতা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রকে শুল্ক প্রত্যাহারের আহ্বান জানায়।

বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠিত ডিজেআই সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বৈশ্বিক ড্রোন বাজারের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি দখল করেছে। তবে ২০২২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটি যুক্তরাষ্ট্রের একটি তালিকায় রয়েছে, যেখানে চীনের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংযোগ আছে বলে বিবেচিত কোম্পানিগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি ব্যবহারে নানা বিধিনিষেধের আওতায় রাখা হয়। ডিজেআই ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে লড়ছে।

এএম