বার্তা সংস্থা রয়টার্সের হাতে আসা পররাষ্ট্র দপ্তরের এক খসড়া নীতিমালায় এ তথ্য জানা গেছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গত ৬ আগস্টের নির্বাহী আদেশ কার্যকরের লক্ষ্যেই এই রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। মূলত বার্থ ট্যুরিজম বা শুধু সন্তানের নাগরিকত্বের সুবিধার্থে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ ঠেকানোই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে তার প্রশাসন মার্কিন নাগরিকত্বের মর্যাদা ও গুরুত্ব সম্পূর্ণভাবে রক্ষা করবে। আর এর মধ্যে রয়েছে পাসপোর্ট যাচাই প্রক্রিয়ায় সেই মানদণ্ডের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করা।’
এর আগে ট্রাম্পের দেয়া একটি নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছিল, মা-বাবার অন্তত একজনের মার্কিন নাগরিকত্ব বা গ্রিনকার্ড না থাকলে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে নাগরিকত্ব পাবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশটির সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীর নাগরিকত্ব সংক্রান্ত ধারা লঙ্ঘনের কারণে সেই আদেশ অবৈধ ঘোষণা করেন।
এরপর ৬ আগস্ট তুলনামূলক সীমিত পরিসরে নতুন আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, যেসব মা-বাবা যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি সরকারের অধীনে কর্মরত, নাগরিকত্ব পেতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন কিংবা শত্রুভাবাপন্ন বিদেশি হিসেবে তালিকাভুক্ত, তাদের সন্তানরা জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব পাবে না।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেয়া শিশুর পাসপোর্টের জন্য মা-বাবাকে কেবল সন্তানের সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ এবং নিজেদের ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র দেখাতে হয়। আবেদনপত্রে নাগরিক কি না তা টিকচিহ্ন দিয়ে জানাতে হলেও বাড়তি নথিপত্র দিতে হয় না। তবে নতুন প্রস্তাব কার্যকর হলে মা-বাবাকে তাদের পাসপোর্ট, জন্মসনদ, গ্রিনকার্ড বা আই-৯৪ ফরমের মতো বৈধ প্রমাণপত্র বাধ্যতামূলকভাবে জমা দিতে হবে।
ট্রাম্পের এই আদেশ কার্যকর ঠেকাতে ইতোমধ্যে আদালতে একাধিক মামলা করেছেন আইনজীবীরা। মেরিল্যান্ডের ডিস্ট্রিক্ট জজ ডেবোরা বোর্ডম্যান আদেশের যৌক্তিকতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে মামলার আবেদন সংশোধনের অনুমতি দিয়েছেন। তবে দেশটির বিচার বিভাগের দাবি, নীতিমালা চূড়ান্ত হওয়ার আগেই এই আইনি চ্যালেঞ্জ জানানো হয়েছে।





