জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োদো নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে আরাঘচি এ মন্তব্য করেন। তিনি অভিযোগ করেন, জাপানের আওমোরি প্রশাসনিক অঞ্চলের মিসাওয়া বিমানঘাঁটিতে মোতায়েনকৃত যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর এফ-১৬ যুদ্ধবিমান মধ্যপ্রাচ্যে পাঠিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে।
আরাঘচি বলেন, জাপানের ভূখণ্ডে অবস্থিত সামরিক অবকাঠামো কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তার দায় জাপান সরকারের ওপর বর্তায়। তার দাবি, এ ঘটনা প্রমাণ করে যে জাপানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলো শুধু দেশটির অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষার জন্য নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপকতর ‘আক্রমণাত্মক নীতি’ সমর্থনেও ব্যবহৃত হয়।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাপানের ‘শান্তিকামী জনগণের’ প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের আঞ্চলিক পদক্ষেপে টোকিওর সহযোগিতার বিষয়ে সরকারের কাছ থেকে জবাবদিহিমূলক ব্যাখ্যা দাবি করতে হবে।
এর কয়েকদিন আগে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অবৈধ কর্মকাণ্ড ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসবাদে ‘জড়িত থাকা’ হিসেবে গণ্য হবে।
জাপান সরকার অবশ্য তাদের ভূখণ্ডের মার্কিন ঘাঁটি থেকে স্বাধীনভাবে কোনো সামরিক হামলা পরিচালনার অনুমোদন দিয়েছে কি না, তা সরাসরি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। যুক্তরাষ্ট্র-জাপান নিরাপত্তা চুক্তির আওতায় জাপানে মার্কিন সামরিক অবকাঠামো রয়েছে। তবে পূর্ব এশিয়ার তাৎক্ষণিক প্রতিরক্ষার বাইরে অন্য অভিযানে টোকিওর পূর্বানুমতি প্রয়োজন কি না, তা জাপানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংবেদনশীল বিষয়।
জাপান তার অপরিশোধিত তেলের চাহিদার ৯০ শতাংশের বেশি মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমদানি করে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এর আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আরাঘচি স্পষ্ট করেছেন, ইরান স্বল্পমেয়াদি যুদ্ধবিরতি বা অস্থায়ী সমঝোতা চায় না। তারা পশ্চিমা সমর্থিত সামরিক আগ্রাসনের স্থায়ী অবসান, ভবিষ্যতে হামলার বিরুদ্ধে পূর্ণ নিশ্চয়তা এবং ক্ষয়ক্ষতির জন্য আনুষ্ঠানিক ক্ষতিপূরণ দাবি করছে।





