গত বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরেই নাম পরিবর্তনের বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছিলেন। এমনকি ভবিষ্যতে আটলান্টিক ও প্রশান্ত মহাসাগরের নাম পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমাদের আটলান্টিক বা প্রশান্ত মহাসাগরের নামও পরিবর্তন করতে হবে, কিংবা হয়তো দুটি সাগরের নামই বদলে দেওয়া হবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের এই একক সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে কানাডা। দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এই নতুন নাম মেনে নেবে না। নাম পরিবর্তনের ফলে দুই দেশের বাণিজ্যিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের চড়া শুল্ক নীতির জবাবে কানাডা সরকারও মার্কিন পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছে। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, চারশত বছরেরও বেশি পুরনো ইতিহাস সমৃদ্ধ এই হ্রদটিকে কানাডার মানুষ সব সময় ‘লেক অন্টারিও’ হিসেবেই ডাকবে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরু থেকেই একের পর এক নাম পরিবর্তনের হিড়িক দেখা গেছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে হোয়াইট হাউসে ফিরেই তিনি মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করেন। একই সঙ্গে উত্তর আমেরিকার সর্বোচ্চ পর্বত ডেনালির নাম বদলে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট উইলেম ম্যাককিনলির নামে ‘মাউন্ট ম্যাককিনলি’ করেন, যা ২০১৫ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা স্থানীয় আদিবাসীদের ভাষায় পরিবর্তন করেছিলেন।
এ ছাড়া ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে বিগত বাইডেন সরকারের পরিবর্তিত ৯টি সেনা ঘাঁটির নাম ফের আগের কনফেডারেট নেতাদের নামে পুনর্বহাল করেন। এর মধ্যে ফোর্ট ব্র্যাগ, ফোর্ট বেনিং ও ফোর্ট হুড অন্যতম। বিভিন্ন দেশের সরকারি মানচিত্রে পরিবর্তনের চাপ ছাড়াও ট্রাম্প প্রশাসনের এমন কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও ঘরোয়া রাজনীতিতে বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।





