বিশকেকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই সম্মেলনে স্বাগতিক কিরগিজস্তানের প্রেসিডেন্ট সাদির জাপারোভের সভাপতিত্বে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সশরীরে অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রায় এক ডজন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান উপস্থিত থাকবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মস্কো ও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে এসসিও সম্মেলনকে একটি বহুপক্ষীয় বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে অবস্থান স্পষ্ট করার প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। ইউক্রেন যুদ্ধের সাড়ে চার বছর এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের ছয় মাস পর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে বিশ্বরাজনীতিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
সম্মেলনের ফাঁকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র ইউরি উশাকভ জানান, প্রেসিডেন্ট পুতিন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত দুই দেশ রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে অস্ত্র না দেয়ার জন্য মস্কো ও বেইজিংকে সতর্ক করেছিলেন।
ঐতিহাসিকভাবে এসসিও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ওপর মনোযোগ দিলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও বেইজিংয়ের নেতৃত্বে জোটটি গতি পেয়েছে। বর্তমানে ১০টি স্থায়ী সদস্য দেশ ছাড়াও এই জোটে ১৫টি ‘সংলাপ অংশীদার’ রয়েছে, যার মধ্যে তুরস্ক, সৌদি আরব ও কাতার অন্তর্ভুক্ত। এ ছাড়া আফগানিস্তান ও蒙古লিয়া পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেন ও ইরান যুদ্ধের পাশাপাশি চীন ও ভারতীয় পণ্যের ওপর চড়া শুল্ক আরোপ করে বাণিজ্যযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশকেক সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ হাসান নাজমি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, বিশ্ব রাজনীতিতে একঘরে হওয়া এবং মার্কিন ও ইউরোপীয় নিষেধাজ্ঞা এড়াতেই তেহরান এসব আঞ্চলিক জোটে নিজেদের সক্রিয় রাখছে। জোটটি বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির ২৫ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করলেও সদস্য দেশগুলোর মধ্যে কিছুটা অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্যও রয়ে গেছে।





