ঘুষ কেলেঙ্কারি মামলায় ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্টের কারাদণ্ড, আজীবন রাজনীতিতে নিষিদ্ধ

ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো ও তার স্ত্রী রোসিও গনসালেস নাভাস
ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো ও তার স্ত্রী রোসিও গনসালেস নাভাস | ছবি: সংগৃহীত
0

দেশের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে ঘুষ নেয়ার দায়ে ইকুয়েডরের সাবেক প্রেসিডেন্ট লেনিন মরেনোকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। একই সঙ্গে ৭৩ বছর বয়সী এই সাবেক প্রেসিডেন্টকে ভবিষ্যতে যেকোনো সরকারি পদ বা দায়িত্ব পালনের ওপর আজীবন নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

শুক্রবার সরকারি কৌঁসুলির কার্যালয় থেকে এই রায় ঘোষণার তথ্য জানানো হয়। আদালতের বিচারিক প্যানেলের প্রধান বিচারক ম্যানুয়েল ক্যাব্রেরা রায় ঘোষণার সময় বলেন, সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে লেনিন মরেনোর বিরুদ্ধে আনা ঘুষের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানায়, কোকা কোডো সিনক্লেয়ার জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ঘিরে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ভুয়া পরামর্শক চুক্তির মাধ্যমে চীনা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সিনোহাইড্রো প্রায় ৭ কোটি ৬১ লাখ ডলার ঘুষ দিয়েছে।

আদালত এই মামলায় মরেনোর স্ত্রী ও কন্যা ছাড়াও তার দুই ভাই এবং তাদের স্ত্রীদের আড়াই বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন। এ ছাড়া ইকুয়েডরে নিযুক্ত চীনের সাবেক রাষ্ট্রদূত চাই রুনগুওকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, করস্বর্গ হিসেবে পরিচিত বিভিন্ন দেশের ভুয়া কোম্পানি ও বিদেশি ব্যাংক হিসাব ঘুরে এই অর্থ মরেনোর পরিবার ও সহযোগীদের কাছে পৌঁছেছিল। ২০০৭ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে মরেনো ও তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়রা ১০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ গ্রহণ করেছিলেন বলে জানান কৌঁসুলিরা।

তবে শুরু থেকেই নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন মরেনো। তিনি দাবি করেন, প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর বা তদারকির সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। শুনানিকালে আদালতে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভুল জায়গায় নজর দিচ্ছেন। যারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছিলেন এবং যাদের ঘুষ দাবি করার অভ্যাস ছিল, তাদের দিকে তাকান।’ ২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করা মরেনো বিচারের মুখোমুখি হতে প্যারাগুয়ে থেকে দেশে ফিরেছিলেন।

এএম