হিমালয়ে বিপর্যয়ে নেপালে প্রাণহানি বেড়ে ৫৭৯; নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার

নেপালের বন্যা পরিস্থিতির ছবি
নেপালের বন্যা পরিস্থিতির ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

নেপালে গত বুধবার হিমবাহ ধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭৯ জনে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ১ হাজার ৯২৪ জন। উদ্ধারকাজে ইতিমধ্যে ১৫ হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং প্রায় ৪ হাজার মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)। এদিকে ধসের ফলে সৃষ্ট নতুন একটি হ্রদ এবং কাছাকাছি আরও দুটি হিমবাহে ফাটল ধরা পড়ায় বড় ধরনের নতুন বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নিখোঁজদের মধ্যে বহু বিদেশি
নেপালি পুলিশের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৬টি দেশের ৫৭৫ জন বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৮৩ জন ভারতীয়, ৬৫ জন মার্কিন, ৬২ জন ইউক্রেনীয় ও ৩৩ জন ব্রিটিশ নাগরিক। এ ছাড়া নেপালের অভ্যন্তরীণ ১৪৯ জন পর্যটকও নিখোঁজ রয়েছেন।

নেপাল পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে, বুধবারের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১২১ জন বিদেশি নাগরিককে উদ্ধার করা হয়েছে। আহত, আটকে পড়া ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধারে সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

তিব্বতে বাড়ছে প্রাণহানি
সীমান্তবর্তী তিব্বতেও দুর্যোগের ভয়াবহতা বাড়ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে, সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৫৫৮ জন। ১৯৫০-এর দশকে চীনের সঙ্গে একীভূত হওয়া তিব্বত কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল হওয়ায় সেখানকার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের প্রবেশাধিকার সীমিত থাকায় তথ্যের জন্য মূলত চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

দুর্যোগের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সরাসরি নির্দেশনা দিয়েছেন এবং প্রিমিয়ার লি চিয়াং বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। বড় কোনো দুর্যোগের এত দ্রুত সময়ের মধ্যে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরিদর্শনের ঘটনা বিরল।

নতুন বন্যার আশঙ্কা, দুই হিমবাহে ফাটল
হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট বিশাল হ্রদটি (ব্যারিয়ার লেক) নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তারা জানিয়েছে, হ্রদটির পানি উপচে পড়ার ‘উচ্চ ঝুঁকি’ রয়েছে এবং পরিস্থিতি এখন সংকটজনক পর্যায়ে। শুক্রবার হ্রদ থেকে পানি চুঁইয়ে পড়তে শুরু করলে উদ্ধারকাজ কিছু সময়ের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল, পরে তা আবার শুরু হয়।

নেপালের আবহাওয়া দপ্তরের কর্মকর্তারা বিবিসিকে জানিয়েছেন, ধসে পড়া হিমবাহের কাছাকাছি আরও দুটি হিমবাহের ওপর তারা কড়া নজর রাখছেন। উপগ্রহ চিত্রে ওই দুটি হিমবাহে ফাটল ধরা পড়েছে। যদিও এসব ফাটল যে অচিরেই ধসের কারণ হবে, তা নিশ্চিত নয়। তবে সাম্প্রতিক বিপর্যয়ের পর কোনো ঝুঁকিই হালকাভাবে নিতে চাইছেন না কর্তৃপক্ষ।

আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (ইসিআইএমওডি) জলবায়ু ও পরিবেশ ঝুঁকিবিষয়ক প্রধান কিয়াংগং ঝাং বলেন, ‘উপগ্রহ চিত্রে দেখা গেছে, ওই হিমবাহগুলোর একটিতে ঝুলন্ত বরফের স্তূপ থাকতে পারে, যা নিবিড় পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন দাবি করে।’ বিজ্ঞানীদের ভাষ্যমতে, খাড়া পাহাড়ের ঢালে আটকে থাকা এই ধরনের ঝুলন্ত হিমবাহ অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে থাকে।

উদ্বিগ্ন স্বজনরা
বিশ্বজুড়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনরা প্রিয়জনের খোঁজ পেতে ছুটে বেড়াচ্ছেন। নিখোঁজ ব্রিটিশ নাগরিক গীতা রেড্ডির স্বামী বিবিসিকে বলেন, ‘আমি সন্তানদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে বলছি।’ নিখোঁজদের একটি বড় অংশ তিব্বতের পবিত্র কৈলাশ পর্বত ও মানসরোবর হ্রদের উদ্দেশে যাত্রা করা ভারতীয় তীর্থযাত্রী।

এএম