নেপালে বন্যা পরিস্থিতি: ১০ হাজার মানুষের চিকিৎসা সরঞ্জাম পাঠালো জাতিসংঘ

জাতিসংঘের লোগো
জাতিসংঘের লোগো | ছবি: সংগৃহীত
0

নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় প্রাণহানি, নিখোঁজ এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞে গভীর শোক ও সংহতি জানিয়েছে জাতিসংঘ। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন মানবিক সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করছে সংস্থাটি। তবে চীনের পরিস্থিতিতে এখনো সরাসরি জাতিসংঘের কোনো কর্মী ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেননি বলে জানিয়েছেন মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুজন কর্মী ইতোমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন। তাদের সঙ্গে প্রায় ১০ হাজার মানুষের তিন মাসের প্রয়োজন মেটানোর মতো চিকিৎসা সরঞ্জাম, তাঁবু ও লজিস্টিক সহায়তা রয়েছে। আগামীকাল থেকে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি ও ইউনিসেফও কর্মী এবং ত্রাণসামগ্রীবাহী ট্রাক পাঠাবে। সেভ দ্য চিলড্রেন নুওয়াকোট জেলায় কর্মী পাঠানো শুরু করেছে এবং নেপাল রেড ক্রস প্রায় ২০০টি জরুরি আশ্রয় প্যাকেজ পাঠিয়েছে।

নেপালের পরিস্থিতিকে অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে জাতিসংঘ জানিয়েছে, সরকার পরিচালিত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তা করছে তারা। দেশটিতে দুর্যোগের মাত্রা দ্রুত মূল্যায়ন এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দিতে জাতিসংঘের বিভিন্ন দল ও মানবিক সংস্থাগুলো কাজ করছে।

গতকাল (বুধবার, ২৬ আগস্ট) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের নিয়মিত ব্রিফিংয়ের শুরুতে এশিয়ার বন্যা পরিস্থিতি তুলে ধরে ডুজারিক বলেন, নেপাল ও চীনে ভয়াবহ বন্যায় বহু মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন এবং ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। ক্ষতিগ্রস্ত সবার প্রতি সংহতিও প্রকাশ করেন জাতিসংঘ মহাসচিব।

জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচিও তথ্য ব্যবস্থাপনায় সহায়তা এবং জাতিসংঘের স্বেচ্ছাসেবক পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার স্যাটেলাইট চিত্র ও বিশ্লেষণ সংগ্রহ করে দুর্যোগের প্রকৃত মাত্রা নিরূপণের চেষ্টা চলছে।

অন্যদিকে চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলেও ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির খবর জানিয়েছে জাতিসংঘের চীন কার্যালয়। তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় অন্তত তিনজন নিহত এবং ২৬৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে চীনা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তথ্য।

চীনের পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে ডুজারিক বলেন, ঘটনাটি মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ঘটেছে। সেখানে জাতিসংঘের কোনো কর্মী তখন ছিলেন না এবং এখনো নেই। তবে চীন এ ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যথেষ্ট সক্ষম এবং দেশটির জরুরি সেবা-ব্যবস্থা ভালো বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ডুজারিক বলেন, চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জাতিসংঘ যোগাযোগ রাখবে এবং কীভাবে ও কোন উপায়ে তাদের প্রচেষ্টায় সহায়তা করা যায়, সে বিষয়ে সমন্বয় করা হবে।

এদিকে জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র অন্য এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নেপাল ও চীনের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে রয়েছে জাতিসংঘ। জীবন রক্ষায় কাজ করা জরুরি উদ্ধার কর্মীদের প্রশংসা করে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও সহায়তা দেয়ার প্রস্তুতির কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছেন মহাসচিব।

ইএ