পশ্চিমবঙ্গ থেকে তামিলনাড়ু: শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে উত্তাল ভারত

ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
ভারতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ | ছবি: সংগৃহীত
0

বিক্ষোভের নতুন জোয়ার স্পর্শ করেছে ভারতের তরুণ প্রজন্মকে। দিল্লির যন্তর মন্তর থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, দিল্লি, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড, তামিলনাড়ু- একেক রাজ্যে একেক দাবিতে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। 'স্কুল ঠিক করো' কর্মসূচির জন্য মহারাষ্ট্রে মামলার মুখে ককরোচ জনতা পার্টি। তবে এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে মৌলিক সুবিধার দাবিতে আন্দোলনে স্কুল শিক্ষার্থীদের সমর্থন।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে বামপন্থি ছাত্রনেতাদের ওপর বৃহস্পতিবার হামলা চালায় কট্টর হিন্দুত্ববাদী সংগঠন আরএসএসের ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মীরা। সহিংসতার প্রতিবাদে পরদিন বিক্ষোভ শোভাযাত্রায় কাঁধে কাঁধ মেলান শিক্ষার্থী-শিক্ষকসহ কলকাতার সাধারণ মানুষ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়নি তিনদিনেও। উল্টো ছাত্রদেরই দুষলেন বিজেপিমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, যাদবপুরের সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে পড়া বাদ দিয়ে আন্দোলন করা। ভালো পরিবারের ভালো সন্তানরা সেখানে যায়। তারপর তাদের শেখানো হয়, একটা শ্লোগান আছে তাদের যে ভারতকে টুকরো টুকরো করা হবে। এরপর এরাই যখন বিদেশে চলে যায়, বিপ্লব ভুলে যায়। ভোগবাদীদের দলে নাম লেখায়, সব সুবিধা নেয়, দেশকেও ভুলে যায়, বিপ্লবও ভুলে যায়। এটাই যাদবপুরের সংস্কৃতি।

বিহারের পাটনায় ১৯ দিন ধরে অনির্দিষ্টকালের অনশনে থাকা পিএইচডি ডিগ্রিধারীরা শনিবার লোকভবন শোভাযাত্রার এক পর্যায়ে পুলিশি ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগোতে থাকে। রাজ্য সরকারের নতুন নিয়োগ নীতিমালার বিরুদ্ধে এবং সহকারী অধ্যাপক নিয়োগে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নিয়ম বাস্তবায়ন ও বয়স বৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভে যোগ দেয়া কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ।

রাজস্থানের জয়পুরে শনিবার একটি স্নাতকোত্তর ভর্তি পরীক্ষায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়ায় পরীক্ষা সম্পূর্ণ করতে পারেননি ৪৯ প্রার্থী। এছাড়াও পরীক্ষায় নকলের সুযোগ দেয়ার অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন পরীক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীরা অনেক পরিশ্রম করে এখানে আসে। দুই-তিন বছর পড়াশোনার পর এখানে পৌঁছায়। আর তারপর এসব অনিয়ম নিয়ে সংবাদমাধ্যমও কোনো প্রশ্ন করে না প্রশাসনকে। তাই শিক্ষার্থীদের সাথে কোনো অন্যায় হলেও সরকারের কিছু যায়-আসে না।

ঝাড়খণ্ডে বেশ কয়েকটি নিয়োগ পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকার বাতিলে উচ্চ আদালত সিদ্ধান্ত বহাল রাখায় কয়েক জায়গায় বিক্ষোভ সহিংসতায় রূপ নিলে নারীদের ওপর আক্রমণের ঘটনায়, উত্তপ্ত রাঁচি।

এর আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে কোটাবিরোধীরা আন্দোলনের জন্য জড়ো হলে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। হয় সংঘাতও।

এদিকে, সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের নেপথ্যে দিল্লির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া ককরোচ জনতা পার্টি- সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়েছে মহারাষ্ট্র পুলিশ। ভারতজুড়ে সিজেপি'র 'স্কুল ঠিক করো' অভিযানের আওতায় আগাম ঘোষণা ছাড়া স্কুল পরিদর্শন কর্মসূচি অবৈধ অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে কয়েকটি অপরাধমূলক ধারায়।

সিজেপি নেতা অভিজিতের বিরুদ্ধে শিক্ষক-শিক্ষিকাকে হুমকি দেয়া, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানিসহ নানা অভিযোগ উঠলেও, মৌলিক সুবিধার দাবিতে সমর্থন জানাচ্ছে অনেক স্কুল শিক্ষার্থী। আবার রাজস্থানসহ অনেক জায়গায় তোপের মুখে পড়া এবং হামলার জন্য বিজেপিকে দায়ী করছে সিজেপি।

ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দিপকে বলেন, এদের ভয় আছে যে সিজেপি সত্যি সত্যি স্কুল ব্যবস্থা ঠিক করে ফেলে কি না আর সত্যি সত্যি সিজেপির বদৌলতে সব ঠিক হয়ে যায় কি না। সবাই পড়াশোনা শিখে ফেললে বিজেপিকে ভোটকে দেবে। কারণ ওদের দল তো সন্ত্রাসী দিয়ে ভরা।

শিক্ষিকার চড়ে ছয় বছরের স্কুল শিক্ষার্থীর মৃত্যুকে ঘিরে তামিলনাড়ুতেও দানা বাঁধছে ক্ষোভ।

ইএ