হরমুজ প্রণালিকে নতুন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্র প্রকাশ

যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে হরমুজ প্রণালি
যুক্তরাষ্ট্রের মানচিত্রে হরমুজ প্রণালি | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক আগ্রাসনের জবাব হবে কাঁপিয়ে দেয়ার মতো। তাই আগ্রাসনে অংশ নিয়ে বৈরিতা না বাড়াতে, প্রতিবেশীদের সতর্ক করলো ইরান। অন্যদিকে, আবারও হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে মানচিত্র প্রকাশ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। দুই দেশের বাকবিতণ্ডার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে ওয়াশিংটনের নতুন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন।

২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ বিমান হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া যুদ্ধ প্রায় ছয় মাসে গড়ালেও, এ পর্যায়ে বিরতি চলছে প্রত্যক্ষ সামরিক সংঘাতে। কিন্তু স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় আলোচনায় অগ্রগতির কোনো লক্ষণ এখনও দৃশ্যমান নয়।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালী হয় তেল পরিবহণ দৃশ্যত থমকে আছে। অনুমতি ছাড়া হরমুজের দিকে এগোলেই হামলা হবে বলে স্পষ্ট হুমকি দিয়ে রেখেছে তেহরান। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় আগেই বিধ্বস্তপ্রায় ইরানের অর্থনীতি। এর ওপর সোমবার দেশটির বিরুদ্ধে ইতিহাসের কঠোরতম নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়ার কথা মার্কিন অর্থমন্ত্রীর। যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক আগ্রাসনে যোগ দিয়ে ইরানের শত্রু দেশের তালিকায় নাম না লেখাতে সতর্ক করলে তেহরান।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মোহসিন রেজায়ি বলেন, আমাদের পাল্টা আক্রমণ হবে ভূমিকম্পের মতো। প্রথমেই সব প্রতিবেশী এবং বিশ্বের সব দেশকে বলব যুক্তরাষ্ট্রের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধে অংশ না নিতে। যে দেশই আমাদের উপর অর্থনৈতিক বিধিনিষেধ আরোপে অংশ নেবে, তাকে শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে। অবশ্যই আমরা প্রথমে তাদের সাথে আলোচনা করব এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে তাদের দূরত্ব বজায় রাখতে বলব। সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না নিলে হবে চূড়ান্ত আঘাত। আমরা সেই দেশের স্বার্থকে লক্ষ্যবস্তু করব।

ট্রাম্প প্রশাসনের চাপে নতি স্বীকার না করলেও, 'যুদ্ধ ছাড়া শান্তি নেই' পরিস্থিতিতে ইতি টানার আহ্বান জানাচ্ছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, যুদ্ধে এগিয়ে থাকতে থাকতেই সংঘাতের অবসান চান প্রেসিডেন্ট। ইরানের মূল্যবোধ ও আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে প্রতিদিনই বসছেন আলোচনায়। যদিও হরমুজ প্রণালীকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করে আবারও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মানচিত্র প্রকাশের ফলে নড়বড়ে পরিস্থিতিই দৃশ্যমান। এ অবস্থায়, ইরানের হুমকিকে আমলে নিতে ট্রাম্প প্রশাসনের প্রতি পরামর্শ বিশ্লেষকদের।

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মার্কিন কূটনীতিক জোয়ি হুড বলেন, এই হুমকিকে গুরুত্ব সহকারে নেয়া উচিত। কারণ শুধু গত কয়েক বছরেই ইরান নিজেদের দক্ষিণ ও পশ্চিম সীমান্তের সবগুলো দেশে একাধিকবার বোমা হামলা চালিয়েছে। কয়েক বছর আগে পাকিস্তান থেকে শুরু করে সম্প্রতি ওমানসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোতে পর্যন্ত হামলা হয়েছে। গত সপ্তাহেই ইরাকে কুর্দিস্তান আঞ্চলিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও গোয়েন্দাপ্রধানের বাসভবন ও কার্যালয়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। তালিকা আরও দীর্ঘ। হিজবুল্লাহর মাধ্যমে জর্ডান, সিরিয়া ও লেবাননের ওপর কয়েক দশক ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।

দুই দেশের এই বাকবিতণ্ডার মধ্যেই ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কনের শূন্যস্থান পূরণে মধ্যপ্রাচ্যের সাগরে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, হরমুজের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে রোববার ফ্রান্সে পৌঁছেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। বৈঠক করবেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সাথে।

ইএ