আজ (রোববার, ২৩ আগস্ট) দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা কালো ব্যাজ ধারণ করেন। বেলা ১১টায় ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতারা বক্তব্য দেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ‘২০০৭ সালের আগস্টে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘটিত ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসের একটি বিভীষিকাময় অধ্যায়। ওই সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের ওপর যে নির্যাতন ও নিপীড়ন চালানো হয়েছিল, তা কখনো ভুলে যাওয়ার নয়।’
তিনি বলেন, ‘২০ আগস্টের ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়কে যে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছিল, তার স্মৃতি এখনো অম্লান। সে সময় শিক্ষক সমিতির নেতৃত্বে থাকা এবং আন্দোলনে অংশ নেয়া শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি ও চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল।’
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অন্যায়, নিপীড়ন ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।’
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘অন্যায় ও অগণতান্ত্রিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সব সময় সোচ্চার থেকেছে।’
২০০৭ সালের ঘটনার স্মরণে ২৩ আগস্ট ‘কালো দিবস’ পালনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে উপাচার্য বলেন, ‘এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য শুধু অতীতের ঘটনা স্মরণ করা নয়; ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়, নিপীড়ন ও ক্ষমতার অপব্যবহারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার শিক্ষা দেয়াও এর অন্যতম উদ্দেশ্য।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অন্যায় সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেয়া কিংবা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করা কখনো গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য ও মর্যাদা রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
২০০৭ সালের ঘটনায় কারাবরণ ও নির্যাতনের শিকার শিক্ষকদের স্মরণ করে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ প্রতিবাদী শিক্ষকদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, ‘তাদের দৃঢ়তা ও নীতির প্রতি অবিচল অবস্থান বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে।’
অধ্যাপক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা কালো দিবস পালন করছি শুধু একটি দিনকে স্মরণ করার জন্য নয়; বরং এই শিক্ষা ধারণ করার জন্য যে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অন্যায় করে কেউ পার পাবে না, অন্যায়ভাবে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে কেউ টিকে থাকতে পারবে না।’
তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং অন্যায়ের প্রতিবাদের ঐতিহ্য ভবিষ্যতেও অক্ষুণ্ন রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সদরুল আমিনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নেতারা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় বিভিন্ন অনুষদের ডিন, প্রক্টর, হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অ্যালামনাই সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।





