ইরান ‘সঠিক চুক্তির’ জন্য প্রস্তুত নয়, দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান এখনো ‘সঠিক চুক্তির’ জন্য প্রস্তুত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার বিস্তারিত ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাল্টা ইরান বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হুমকির জবাব ‘শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক’ হবে।রয়টার্সের বরাত দিয়ে আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (শুক্রবার, ২১ আগস্ট) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের ‘পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ’ আছে। ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের সুযোগ সীমিত হয়ে গেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি কী হয়।’ তার ভাষ্য, ইরান চুক্তি করতে চাইলেও এখনো ‘সঠিক চুক্তি’ করতে প্রস্তুত নয়।

এদিকে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের ওপর নতুন আর্থিক পদক্ষেপের বিস্তারিত আগামী সোমবার জানানো হবে। এর আগে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন, ইরানকে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সহায়তা দিলে সংশ্লিষ্ট দেশকেও অর্থনৈতিক পরিণতির মুখে পড়তে হবে।

বেসেন্ট সিএনবিসিকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা এই শাসনব্যবস্থাকে পতনের দিকে ঠেলে দেব।’

ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আলী আবদুল্লাহি বলেন, স্থল, সমুদ্র, আকাশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ও সাইবার ক্ষেত্রে প্রস্তুতি নিয়ে ইরানের বাহিনী নতুন হুমকির জবাব দেবে। ইরানি সংবাদমাধ্যমের উদ্ধৃতিতে তিনি বলেন, ‘শত্রুর নতুন হুমকির জবাব হবে শাস্তিমূলক ও ধ্বংসাত্মক।’

ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, সরাসরি সামরিক সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধা করতে পারবে না বুঝতে পেরেই তারা অর্থনৈতিক চাপের পথ বেছে নিয়েছে। তবে তিনি অর্থনৈতিক চাপের কথাও স্বীকার করেন। তিনি বলেন, জনগণ ক্ষুধার মুখে পড়লে এবং অর্থনীতি সচল না থাকলে শুধু সামরিক শক্তি দিয়ে দেশ টিকে থাকতে পারে না।

প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সংঘাতে উপসাগরীয় কয়েকটি দেশও জড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে ইরান এখনো আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ এবং হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

চলমান যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের কয়েকটি লক্ষ্য এখনো পূরণ হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এর মধ্যে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি ভেঙে দেয়া এবং দেশটির ধর্মীয় নেতৃত্বকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্য আছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বাড়ায় ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাও কমেছে। রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে চলতি মেয়াদে তার জনপ্রিয়তা সর্বনিম্নে নেমেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারির পর গতকাল (শুক্রবার, ২১ আগস্ট) তেলের দাম বেড়েছে। কেপলারের ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, ইরান সমুদ্রপথে যে তেল রপ্তানি করে, তার ৮০ শতাংশের বেশি কেনে চীন। তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস বলেছে, নিষেধাজ্ঞা ও চাপ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। তারা কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে।

হরমুজ প্রণালি এখনো সংঘাতের অন্যতম কেন্দ্র। ফেব্রুয়ারির আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে বাণিজ্য হওয়া মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে যেতো। যুদ্ধের কারণে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনা ও পানীয় জল সরবরাহে ব্যবহৃত লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ কেন্দ্রও ঝুঁকিতে পড়েছে।

এপ্রিল ও জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই দফা যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও তা টেকেনি। হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল ফেরাতে ইরান ও ওমানও আলোচনা করেছে। তবে জাহাজ চলাচলে টোল আরোপের কোনো ব্যবস্থার বিরোধিতা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এদিকে ন্যাটোর শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা, মার্কিন বিমানবাহিনীর জেনারেল অ্যালেক্সাস গ্রিনকিউইচ বুধবার জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিরক্ষাপ্রধানদের নিয়ে ভিডিও বৈঠক করেছেন। তার মুখপাত্র জানান, হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। এটি ন্যাটোর কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান নয়।

এএম