হার্নান জিরাল্ডো, মূহর্তের ভূমিকম্পে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া কলম্বিয়ার পেরেইরা শহরের একটি ভেঙ্গে পড়া ভবনের সামনে নিখোঁজ ছেলের ছবি হাতে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকা এক বাবা। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সন্তানের জীবিত ফেরার সম্ভাবনা কমে আসলেও, আশা ছাড়তে নারাজ তিনি।
হার্নান জিরাল্ডো বলেন, ‘ছেলেকে জীবিত আলিঙ্গন করার অপেক্ষায় আছি। উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ সরাতে কাজ করছে। আমিও তাদের সহায়তা করছি।’
ভূমিকম্প আঘাত হানার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে অলৌকিকভাবে কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে উদ্ধারকর্মীরা, যা আশার সঞ্চার করছে জিরাল্ডোসহ নিখোঁজদের স্বজনদের মাঝে।
আরও পড়ুন:
ভূমিকম্প বিধ্বস্ত শহরগুলোতে তীব্র হচ্ছে মানবিক সংকট। রাস্তায় তাঁবু টেনে কোনোমতে দিনযাপন করছেন ভূমিকম্পে মাটিতে মিশে যাওয়া ভবনের বাসিন্দারা। সহায়-সম্বলহীনদের দুঃখ- দুর্দশাকে বাড়িয়ে দিয়েছে খাবার-পানির সংকট।
এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, ‘শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি কষ্ট পাচ্ছে। আমাদের প্রচুর পরিমাণে অপচনশীল খাবার, স্বাস্থ্যবিধি সামগ্রী, টর্চলাইট ও কম্বলের মতো সামগ্রী দরকার।’
কলম্বিয়ার ভূমিকম্প বিধ্বস্ত মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসছে অনেক বিত্তবান সংগঠন। ব্যক্তি উদ্যোগেও সহায় সম্বলহীনদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন কেউ কেউ।
এক রেস্তোরাঁর মালিক বলেন, ‘আমাদের রেস্টুরেন্টের উদ্যোগে ভূমিকম্প বিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দাদের জন্য বিনামূল্যে খাবার সরবাহ করা হচ্ছে। দিনে প্রায় ১ হাজার মানুষকে আমরা খাবার সরবরাহ করছি।’
কলম্বিয়ায় ত্রাণসামগ্রী পাঠানো অব্যাহত রেখেছে বিভিন্ন দেশ। ভূমিকম্প বিধ্বস্ত দেশটিকে জরুরি তহবিল থেকে ৫০ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ দিয়েছে জাতিসংঘ।





