কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন বিধ্বস্ত; জরুরি অবস্থা জারি

কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন বিধ্বস্ত; জরুরি অবস্থা জারি
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে দেড় হাজারের বেশি ভবন বিধ্বস্ত; জরুরি অবস্থা জারি | ছবি: আল জাজিরা
0

কলম্বিয়ায় এই শতাব্দীর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ধসে পড়া ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের সন্ধানে জোর তল্লাশি চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা। এই দুর্যোগে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঘটেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত শহর কালি ও পেরেইরাতে জরুরি বিভাগের কর্মীরা রাতভর কাজ করছেন। ৭.৪ মাত্রার ভূমিকম্পে কংক্রিট ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সাড়া পেতে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করছেন তারা। কালি ও পেরেইরার পাশাপাশি চোকো অঞ্চলেও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে; তবে সেখানকার ক্ষয়ক্ষতির পুরো চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। নবনির্বাচিত কট্টর ডানপন্থি প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলার জন্য এই দুর্যোগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত চিত্র
রাজধানী বোগোতা থেকে ২৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত কালি শহরে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ২২ লাখ মানুষের এই শহরে ৩৫ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট। ডজন ডজন ভবন হেলে পড়েছে বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। এ ছাড়া রিসারালদা অঞ্চলে অন্তত ৪০ জন, চোকো অঞ্চলে ৯ জন, কালদাসে ২ জন এবং অ্যান্টিওকিয়ায় ৭৩ বছর বয়সী একজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।

প্রেসিডেন্ট আবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, শুধু ভালে দেল কাউকা অঞ্চলেই আহতের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়েছে। বিভিন্ন নাগরিক ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। অন্তত ১ হাজার ৬০০ ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে মানিজােলস শহরের একটি ঐতিহাসিক ক্যাথেড্রালের মিনারও রয়েছে। কালির একটি হাসপাতালের ওপরের কয়েকটি তলা ধসে পড়ায় সেখানে চিকিৎসাধীন ৬০০ রোগীকে ধ্বংসস্তূপে ছড়িয়ে থাকা রাস্তায় চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

উদ্ধার তৎপরতা ও দুর্যোগ ঘোষণা
গত শুক্রবার ক্ষমতা নেয়া প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েলা জানিয়েছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারই এখন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। লুটপাটের খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার রাতে কালি ও পেরেইরাতে কারফিউ জারি এবং ভোরের মধ্যে এক হাজার নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েনের নির্দেশ দেন তিনি। সেনা, দমকল কর্মী, স্বেচ্ছাসেবক ও স্বজনরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের সন্ধান করছেন।

কালিতে স্বেচ্ছাসেবীরা মানব-শৃঙ্খল তৈরি করে হাতে হাতে কংক্রিট ও ইট সরাচ্ছেন। ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত অবস্থায় দুজন নারী ও দুই শিশুকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন দমকলকর্মীরা। পেরেইরাতে একটি বেকারির নিচে আটকে পড়া এক কিশোরের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।

চোকো অঞ্চলে উদ্ধার অভিযান বিশেষভাবে কঠিন হয়ে উঠেছে। ইউএস জিওলজিক্যাল সার্ভে জানিয়েছে, কালি ও পেরেইরা থেকে ২০০ কিলোমিটারের বেশি পশ্চিমে অবস্থিত সান হোসে দেল পালমার ছিল এই ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। প্রত্যন্ত এই অঞ্চলে বেশির ভাগ জায়গায় শুধু নৌকা বা বিমানে পৌঁছানো যায়। কলম্বিয়ার জিওলজিক্যাল সার্ভিস সোমবার রাত পর্যন্ত ২১টি পরাঘাত রেকর্ড করেছে এবং আরও ভূমিকম্পের আশঙ্কার কথা জানিয়েছে।

কলম্বিয়ায় জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। কালি, আরমেনিয়া ও মানিজােলসে রাতের কারফিউ জারি করা হয়েছে। পাঁচটি শহরের হাসপাতালকে রেড অ্যালার্টে রাখা হয়েছে। পেরেইরা, মানিজােলস, কিবদো, আরমেনিয়া, কার্তাগো ও বুয়েনাভেন্তুরার বিমানবন্দরে অবকাঠামোগত পরীক্ষার জন্য কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সাড়া
জরুরি ত্রাণ হিসেবে দেড় কোটি ডলারের সহায়তা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন কোপার্নিকাস স্যাটেলাইট সেবা সক্রিয় করেছে। এল সালভাদরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে এবং মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লাউদিয়া শিনবাউমও কলম্বিয়াকে সহায়তার প্রস্তুতি জানিয়েছেন।

এএম